
রাজধানীর কাফরুলে ময়লা ব্যবস্থাপনা, ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজিকে ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নগর ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান অবৈধ অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। সংস্থাটির মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব ও অবৈধ স্বার্থের ফল।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইপিডি জানায়, বিভিন্ন নগরসেবাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অনিয়ম ও অবৈধ অর্থনৈতিক কার্যক্রম সুশাসনের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চালিয়ে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়, বরং এর মূল কাঠামো ভেঙে ফেলতে হবে।
আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, নগরসেবাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অবৈধ আর্থিক স্বার্থ, স্থানীয় আধিপত্য ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এমন সহিংস ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে। তাঁর মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি বহুদিনের অব্যবস্থাপনার ফল।
সংস্থাটি আরও উল্লেখ করে, নাগরিকরা হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের পরও অনেক এলাকায় আলাদাভাবে ময়লা অপসারণের নামে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হন। এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব থাকায় চাঁদাবাজি ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়। আইপিডির পরামর্শ, বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণের পুরো কার্যক্রম সিটি করপোরেশনের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে আনলে রাজস্ব বাড়বে এবং মধ্যস্বত্বভোগী চক্রের দৌরাত্ম্য কমবে।
সংস্থাটি আরও জানায়, ফুটপাত, সরকারি জমি, খাল, জলাশয় ও উন্মুক্ত স্থান দখলকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী প্রভাবশালী গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় এসব দখলদারি দীর্ঘদিন ধরে চলায় নগর পরিকল্পনা, পরিবেশ ও নাগরিক চলাচল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আইপিডির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে অনেক সিটি করপোরেশন প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় জবাবদিহি দুর্বল হয়েছে। এর সুযোগে বিভিন্ন অবৈধ চক্র আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তাই কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংস্থাটি।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইপিডি কয়েকটি সুপারিশ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও দখলদারির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ সিটি করপোরেশনের আওতায় আনা, সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করা, নগরসেবার ইজারা ও আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, দ্রুত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সিটি করপোরেশন পরিচালনা এবং নগরভিত্তিক অবৈধ অর্থনীতি দমনে সমন্বিত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।