
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলা, কর্মসূচির এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি এবং পুলিশি বাধার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি। একই সঙ্গে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে বাধা বন্ধের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) পায়রা চত্বর থেকে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি টিএসসি থেকে শুরু হয়ে ভিসি চত্বর প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
হামলার ঘটনায় ছাত্রদল-যুবদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ
সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা দাবি করেন, হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার সঙ্গে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা জড়িত ছিলেন। তাঁরা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া এবং ভিন্নমত দমনের প্রবণতা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।
‘ভিন্নমত দমনের চেষ্টা চলছে’
জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান, উই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বলেছিলেন। তবে তাঁর দাবি, নির্বাচনের পর গত পাঁচ মাসে যে রাজনৈতিক চিত্র দেখা যাচ্ছে, তাতে মানুষের কণ্ঠরোধ এবং সভা-সমাবেশে বাধা দেওয়ার প্রবণতাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
হবিগঞ্জের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে এনসিপিকে মোকাবিলা করতে না পেরে তাদের কর্মসূচির পথে ট্রাক দাঁড় করিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, অতীতে আওয়ামী লীগের সময় যেসব প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব হয়নি, এবার এনসিপির কর্মীরা সেসব অতিক্রম করে কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
ছাত্রদলের প্রতি হুঁশিয়ারি
সমাবেশে ছাত্রদলকে উদ্দেশ করে আবু বাকের মজুমদার বলেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে তাদের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। তাঁর অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের কর্মীরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত।
তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে এর জবাব দেওয়া হবে।
‘হাসিনার পথ অনুসরণ করা হচ্ছে’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী বলেন, ভিন্নমত দমনে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অতীতের আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের মিল রয়েছে।
তাঁর অভিযোগ, হবিগঞ্জে ট্রাক দিয়ে এনসিপির সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য অশনি সংকেত।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের মৌলিক অধিকার ও প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলেও নানা প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত রয়েছে। একই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতাদের অংশগ্রহণ
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন কলেজের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
সমাবেশ শেষে নেতারা হবিগঞ্জের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রশাসনিক বাধা বন্ধ এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনার প্রতিবাদে সাংগঠনিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।