
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি নিজেদের আস্থা কমে গেছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। ফিফার একটি নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা বাতিল হওয়ার পর দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি দাবি করেছে, শুধু উয়েফা নয়, বিশ্ব ফুটবলের আরও অনেক অংশীজন বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’ নামে নতুন একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। সেই প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হলে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। উয়েফা, কনক্যাকাফ ও এএফসিসহ একাধিক আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থার আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা থেকে সরে আসে ফিফা।
উয়েফা বলেছে, পরিকল্পনা বাতিল হওয়া ইতিবাচক হলেও পুরো প্রক্রিয়াটি ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংস্থাটির মতে, গোপনীয়তা, তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত এবং অস্পষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফুটবলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় কারা দায়ী, তা নির্ধারণ করে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছে তারা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হলো, তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের বিতর্কিত উদ্যোগ আর না আসে, সে জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং বিকল্প ব্যবস্থাও বিবেচনায় রাখতে হবে। উয়েফার ভাষ্য, বর্তমান ফিফা নেতৃত্বের ওপর শুধু তাদের নয়, ফুটবল অঙ্গনের বহু সদস্যের বিশ্বাস নষ্ট হয়েছে।
এ সময় ১০ বছর আগে ফিফা সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার সময় ইনফান্তিনোর দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথাও স্মরণ করিয়ে দেয় উয়েফা। তখন তিনি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছিলেন এবং বলেছিলেন, ফিফার অর্থ সদস্যদের কল্যাণেই ব্যয় হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।
উয়েফার দাবি, ফিফার রিজার্ভে ৫ বিলিয়নের বেশি মার্কিন ডলার থাকা সত্ত্বেও সেই অর্থ সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়নি। তাদের মতে, অলস পড়ে থাকা তহবিল তৃণমূল ফুটবল ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা উচিত, এজন্য ফিফার সম্পদের মালিকানা বিক্রির মতো পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই।
শেষে উয়েফা বলেছে, আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থাগুলোর ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কারণেই বিতর্কিত পরিকল্পনাটি বাতিল হয়েছে, যা বিশ্ব ফুটবলের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তবে ফিফার প্রতি হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে এখন আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।