
পুলিশের লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস ও জলকামানে আহত হওয়ার পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তাঁরা জানিয়েছেন, এখন থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন এবং সারা দেশের বিদ্যালয়গুলোতে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করবেন।
শনিবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর নেতা ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বিকেলে তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত প্রাথমিক শিক্ষকদের মিছিলে শাহবাগে পুলিশ চড়াও হয়। শিক্ষকদের অভিযোগ, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে যাচ্ছিলেন, এমন সময় বিনা উসকানিতে পুলিশ লাঠিপেটা করে এবং কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে শতাধিক শিক্ষক আহত হন।
অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষকরা নির্ধারিত সীমানা অতিক্রম করে যমুনার দিকে এগোচ্ছিলেন; নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবি—
১. সহকারী শিক্ষকদের বেতন জাতীয় বেতন–স্কেলের ১৩তম গ্রেড থেকে উন্নীত করে ১০ম গ্রেডে আনা,
২. শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি,
৩. চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদান।
বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে বেতন পান। এর আগে তাঁরা ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছিলেন। পরে আন্দোলনের ধারা পরিবর্তন করে তাঁরা ১০ম গ্রেড দাবি করতে শুরু করেন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সম্প্রতি ১১তম থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন। রিট মামলার রায়ে দেশের ৪৫ জন প্রধান শিক্ষক প্রথমে এ সুবিধা পান, পরে তা সারাদেশে সম্প্রসারিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সরকারি সূত্র জানায়, প্রধান শিক্ষকদের মতো সহকারী শিক্ষকদের বেতন–গ্রেড বাড়ানোর প্রস্তাবও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আলোচনায় আছে। তবে কবে তা কার্যকর হতে পারে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
লাঠিপেটার ঘটনার পরপরই শহীদ মিনারে ফিরে শিক্ষক নেতারা জরুরি বৈঠক করেন এবং পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা দেন। শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, “আমাদের ওপর বিনা উসকানিতে হামলা হয়েছে। আমরা শহীদ মিনারেই অবস্থান করব যতক্ষণ না দাবি আদায় হয়।”
আন্দোলনে অংশ নেওয়া অন্য নেতারাও জানিয়েছেন, শিক্ষক সমাজ এখন ঐক্যবদ্ধ; তাঁরা চান সরকারের সঙ্গে আলোচনা হলেও আন্দোলন চলবে যতক্ষণ না দাবি পূরণ হয়।