
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নতুন ধারা বাংলাদেশ (এনডিবি) এবং রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। পরে আহতদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় হাতাহাতি ও মারামারির অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে কি না এবং কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আগের ঘটনার জের
শাহবাগ থানা–পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষের পেছনে কয়েক দিন আগের একটি ঘটনার প্রভাব রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত শনিবার জুলাই গণ–অভ্যুত্থান এবং শহীদদের নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াস নতুন ধারা বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানাকে চড় মারেন।
এরও আগে, গত ১ আগস্ট, নতুন ধারা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, তাদের দলীয় কার্যালয়ে শান্তা ফারজানার ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবারের সংঘর্ষকে ওই ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রেসক্লাব এলাকায় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় নতুন ধারা বাংলাদেশ এবং রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম পৃথক কর্মসূচি পালন করছিল।
একপর্যায়ে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে তা হাতাহাতি এবং পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে ভিডিও
সংঘর্ষের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শান্তা ফারজানাসহ কয়েকজন ব্যক্তি আ ন ম আয়াসকে মারধর করছেন। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, একপর্যায়ে আয়াস মাটিতে পড়ে গেলে শান্তা ফারজানা কালো রঙের একটি লোহার পাইপ দিয়ে তাঁকে আঘাত করছেন।
অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সংঘর্ষ চলাকালে আ ন ম আয়াসও শান্তা ফারজানাকে পাল্টা আঘাত করছেন।
তবে ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে ভিডিওতে দেখা দৃশ্য বা ঘটনার পূর্ণ প্রেক্ষাপট সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঢাকা মেডিকেলেও দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষের অভিযোগ
প্রেসক্লাব এলাকায় সংঘর্ষের পর আহত ব্যক্তিরা চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।
সেখানে গিয়েও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
শান্তা ফারজানার পক্ষের দাবি, 'মঞ্চ-২৪' নামের একটি সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আ ন ম আয়াসের সমর্থক পরিচয়ে হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে শান্তা ফারজানা এবং নতুন ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদীর সঙ্গে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
তাঁদের অভিযোগ, ওই সংগঠনের নেতা-কর্মীরা হাসপাতালের ভেতরে তাঁদের কিছু সময় আটকে রাখেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উত্তেজনা প্রশমিত হয়।
পুলিশের বক্তব্য
ঘটনার বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন,
"দুই পক্ষই প্রেসক্লাবে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করছিল। একপর্যায়ে নিজেদের মধ্যে মারামারিতে জড়ায়। হাসপাতালে গিয়েও তারা আবার মারামারি করেছে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।"
আহতদের অবস্থা ও আইনি পদক্ষেপ
সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল সূত্র থেকেও তাঁদের চিকিৎসার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
এছাড়া এ ঘটনায় থানায় মামলা বা সাধারণ ডায়েরি দায়ের হয়েছে কি না কিংবা কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য জানায়নি পুলিশ।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য মেলেনি
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াস, নতুন ধারা বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা এবং দলটির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফলে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ বলছে, ঘটনাটির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।