
ঢাকা, বাসস
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিগত সরকারের আমলে গুমের শিকার হওয়া ৭০০–এর বেশি মানুষের পরিবারের সদস্যরা আজও তাঁদের প্রিয়জনদের ফিরে আসার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। তাঁর ভাষায়, অনেক পরিবার এখনো গভীর রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করে নিখোঁজ স্বজনদের ফিরে পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করছেন।
বুধবার (৬ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত একটি আবৃত্তি উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘১৬ বছরে মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে’
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, গত ১৬ বছরের শাসনামলে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, রাজনৈতিক হয়রানি এবং দমন-পীড়নের মাধ্যমে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
তাঁর দাবি, বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে প্রায় ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যা দেশের বিচারব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তিনি আরও বলেন, একই সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছিল।
‘ক্রসফায়ারের নামে সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত’
আসাদুজ্জামান বলেন, বিগত সরকারের ১৬ বছরের শাসনামলে ক্রসফায়ারের নামে সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
তাঁর ভাষায়, এসব হত্যাকাণ্ড আইনের শাসন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী ছিল এবং এর ফলে বহু পরিবার স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে এ বক্তব্যে উল্লেখ করা পরিসংখ্যান ও অভিযোগগুলো আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের অংশ। এসব বিষয়ে অতীতে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও রাজনৈতিক দলও অভিযোগ তুললেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান ও আইনি প্রক্রিয়া পৃথকভাবে বিবেচ্য।
আবৃত্তিকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির কথা তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী দেশের শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশ নিয়েও কথা বলেন।
তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি জানতে পারেন যে বাংলাদেশে আবৃত্তি শিল্পের কোনো স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছিল না। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইন সংশোধনের মাধ্যমে আবৃত্তিকে নাচ ও গানের মতো দেশের শিল্প-সংস্কৃতির একটি স্বীকৃত শাখা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এর ফলে আবৃত্তি চর্চা আরও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি পাবে এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এর বিকাশের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
‘রক্তপাতহীন ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্য’
বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের কার্যক্রম প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, সংগঠনটি একটি নির্মল, গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন এবং মানবিক সমাজ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
তিনি বলেন, এমন একটি সমাজ গড়ে তোলার স্বপ্ন দীর্ঘদিন ধরেই দেশের মানুষ লালন করে আসছে, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতিচর্চা সমানভাবে বিকশিত হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যারা
জাতীয় শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এই আবৃত্তি উৎসবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মসহ বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ, সংস্কৃতিকর্মী এবং বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আবৃত্তি শিল্পের বিকাশ, সাংস্কৃতিক চর্চা সম্প্রসারণ এবং মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।