প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 11, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 9, 2026 ইং
বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াবেন না: প্রধানমন্ত্রী

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে কোনো ধরনের অপপ্রচার বা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনগণের শান্তি নষ্ট না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, দেশের আগামী ১০ বছরের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের একটি সুনির্দিষ্ট এবং দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা খুব শিগগিরই জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। শনিবার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত এক সুবিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাঁশখালীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য এবং সরকারের নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনার বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
বিদ্যুৎ খাতের নতুন পরিকল্পনা ও পুনর্গঠন
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বিগত সরকারের সময়ে দেশের স্পর্শকাতর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে গুটিকয়েক প্রভাবশালী ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। সেই ভঙ্গুর পরিস্থিতি থেকে জনস্বার্থে এ খাতকে সুপরিকল্পিতভাবে পুনর্গঠন করতে সরকারের কিছুটা সময় প্রয়োজন হচ্ছে এবং ইতিমধ্যে সেই সংস্কার কাজ শুরু হয়ে গেছে। আগামী ১০ বছরের জাতীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়িতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি গণপরিবহন ও কলকারখানার প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাহিদাও মেটানো হবে।
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও শিল্পবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি
দেশে নতুন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনা বিনিয়োগের মাধ্যমে শত শত শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে, যা স্থানীয়দের কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে। এ সময় বিনিয়োগকারীদের পণ্য পরিবহন ও কাঁচামাল আমদানির সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ফ্যামিলি কার্ড, লবণচাষি ও স্থানীয় উন্নয়ন
জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে সারা দেশের প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেওয়া হবে, যার মধ্যে বাঁশখালীর ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার সুবিধা পাবে। সাধারণ কৃষকদের পাশাপাশি বাঁশখালীর ঐতিহ্যবাহী লবণচাষিরাও ‘কৃষক কার্ড’-এর আওতায় আসবেন এবং লবণের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করে শিগগিরই তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়। এছাড়া বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন তিনি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস