
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে একটি জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওই শ্রমিকের নাম মতিউর রহমান (১৯)। এ নিয়ে দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে নয়জনে। এ ঘটনায় আরও সাতজন অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম মতিউরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকায় ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ড অ্যান্ড রিসাইক্লিং কারখানায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
জেলা প্রশাসন ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে নয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও আলাদা তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম শুক্রবার রাত আটটার দিকে সাংবাদিকদের জানান, মতিউর রহমানকে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া আরও সাতজন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের তথ্য পাওয়ার পর মোট মৃতের সংখ্যা নয়জনে দাঁড়িয়েছে।
দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকেরা হলেন সানি জলদাস (২৩), পলাশ জলদাস (৩৫), হাবিবুর রহমান (৫১), মোহাম্মদ মনসুর (৫৫), নাসির উদ্দিন (৫১), আবদুল আলীম (৩৬), রানা মিয়া (২৩), মতিউর রহমান (১৯) ও খোকন মিয়া (২৩)। খোকন ও রানা গাইবান্ধার বাসিন্দা এবং আবদুল আলীমের বাড়ি পাবনায়। বাকি নিহতরা ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা। নিহত মনসুর ও নাসির আপন ভাই ছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শুক্রবার সকালে হঠাৎ কারখানার ভেতর থেকে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনতে পান তাঁরা। পরে সেখানে গিয়ে কয়েকজন অসুস্থ শ্রমিককে গাড়িতে করে হাসপাতালে নেওয়ার দৃশ্য দেখতে পান। এরপর জাহাজের ভেতরে কয়েকজনের মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা কারখানায় ঢুকে ভাঙচুর করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম জানান, যে জাহাজটি ভাঙার কাজ চলছিল সেটি আগে এলএনজি পরিবহনে ব্যবহৃত হতো। এ ধরনের জাহাজ কাটার আগে সম্পূর্ণভাবে গ্যাসমুক্ত করা প্রয়োজন। জাহাজের কিছু ট্যাংকে ফ্লোরিন, কার্বন মনোক্সাইড ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো গ্যাস থাকার সম্ভাবনা থাকে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ট্যাংক যথাযথভাবে গ্যাসমুক্ত না করেই জাহাজ কাটার কাজ শুরু করায় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পাশাপাশি কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থাও পর্যাপ্ত ছিল না বলে তিনি জানিয়েছেন।