
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পূর্ববিরোধের জেরে ইউনিয়ন কৃষক দলের এক নেতার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে ওয়ার্ড বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দুই নারীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহত ব্যক্তিদের আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের গহরদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মাহমুদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহজাহান শিকারীর নেতৃত্বে একদল লোক তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
হামলার ঘটনায় মাহমুদপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্যসচিব বেলায়েত হোসেনের ভাই আমির হোসেন আড়াইহাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পূর্ববিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও মাহমুদপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্যসচিব বেলায়েত হোসেনের ভাষ্য, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সঙ্গে ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহজাহান শিকারী, নুর মোহাম্মদসহ কয়েকজনের বিরোধ চলে আসছে।
এই বিরোধের ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার তাঁর ভাই দেলোয়ার হোসেনকে শাহজাহানের লোকজন মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন বেলায়েত। পরে ওই ঘটনায় দেলোয়ার হোসেনকেই আসামি করে থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বেলায়েতের অভিযোগ, মঙ্গলবারের ঘটনার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এরই মধ্যে শুক্রবার সকালে তাঁদের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।
বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ
বেলায়েত হোসেন অভিযোগ করেন, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে শাহজাহান শিকারীর নেতৃত্বে একদল লোক দেশি অস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে ঢুকে আসবাব ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করে।
এ সময় পরিবারের সদস্যদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। হামলায় দুই নারীসহ মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে লাকি ও রাহিমা নামে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহত ব্যক্তিদের আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হামলার সময় বাড়ির বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুরের পাশাপাশি ঘরে থাকা টাকা ও স্বর্ণালংকারও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
‘দুই লাখ টাকার মালামাল ভাঙচুর’
হামলার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া আমির হোসেন দাবি করেন, হামলাকারীরা বাড়ির বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি করেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা কাঠ ও স্টিলের আলমারি ভেঙে বিভিন্ন ঘর থেকে আনুমানিক তিন ভরি স্বর্ণালংকার এবং ১০ লাখ টাকা নিয়ে গেছে।
আমির হোসেন আরও অভিযোগ করেন, হামলার পরও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকায় ধারালো অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছেন। তাঁরা পরিবারের সদস্যদের আবারও হামলা এবং হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, হামলার পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বিএনপি নেতার অস্বীকার
হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাহমুদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহজাহান শিকারী তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি হামলার সঙ্গে জড়িত নই।’
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি শাহজাহান শিকারী। ফলে হামলার ঘটনায় তাঁর নেতৃত্ব বা সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
পুলিশের তদন্ত শুরু
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন কুমার হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়নি। একই সঙ্গে বাড়ি ভাঙচুর, টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট এবং অস্ত্র নিয়ে মহড়ার অভিযোগেরও তদন্ত করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বিরোধ থেকে উত্তেজনা
স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল বলে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েক দিন আগে মারধরের ঘটনা এবং মামলা হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে তাঁদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
শুক্রবারের হামলার ঘটনায় দুই নারীসহ পাঁচজন আহত হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এক পক্ষ হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ করলেও অভিযুক্ত বিএনপি নেতা তা অস্বীকার করেছেন।
ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলায় কারা জড়িত এবং বাড়ি থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে অভিযোগটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে আড়াইহাজার থানা।