
রয়টার্স ও আল–জাজিরা
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও দীর্ঘায়িত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে ওয়াশিংটন। ইরানে হামলায় অংশ নেওয়া ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে সরিয়ে তার জায়গায় ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন মোতায়েন করা হচ্ছে।
একই সময়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ ‘অনির্দিষ্টকাল’ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতার কথাও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার অচলাবস্থা কাটাতে তেহরানকে চাপ দিতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখা সম্ভব।
ওয়াশিংটনের এই অবস্থান এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে নির্ধারিত ৬০ দিনের আলোচনা কার্যত ভেস্তে গেছে। দুই পক্ষ আবারও পাল্টাপাল্টি হামলার দিকে ফিরে যাওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পরস্পরবিরোধী দাবি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে তাদের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। অন্যদিকে ইরান বলছে, জলপথটির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই এবং তেহরানের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এটি স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়া হবে না। ইরানের দাবির মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা দেশটির সম্পদ ছেড়ে দেওয়া।
এই পরিস্থিতিতে নতুন রণতরি মোতায়েন, দীর্ঘমেয়াদি নৌ অবরোধের হুমকি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও অর্থনৈতিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।
২৪০ দিনের বেশি সমুদ্রে আব্রাহাম লিংকন
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করছে। মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য নতুন রণতরি পাঠানোর সিদ্ধান্তের সময় রণতরিটি টানা ২৪০ দিনের বেশি সমুদ্রে রয়েছে।
দীর্ঘ অভিযানে থাকা জাহাজটির নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য, প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ, পানিদূষণ এবং নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রণতরিটির নাবিকদের ওপর দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন নৌ কর্মকর্তা হারলান উলম্যান বলেন, পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরির মতো অত্যন্ত জটিল যুদ্ধজাহাজের সব ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ সমুদ্রে করা সম্ভব নয়। দীর্ঘ সময় বন্দরে না ফিরলে জাহাজের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
আব্রাহাম লিংকন টানা প্রায় ২০০ দিন কোনো বন্দরে ভেড়েনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ফলে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে কেবল নিয়মিত রণতরি পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন না অনেক বিশ্লেষক। তাঁদের মতে, দীর্ঘ সামরিক অভিযানে মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, নতুন রণতরি পাঠানো তারও একটি প্রতিফলন।
ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা করেছে।
নাবিকদের সমস্যা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘ অভিযানে নাবিকদের মানসিক চাপের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরবরাহের ঘাটতি, পানিদূষণ ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
তবে এসব প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তাঁর ভাষ্য, রণতরিটির পরিস্থিতিকে ‘সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপন’ করা হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডও জানিয়েছে, রণতরিটির কোনো নৌ সদস্য মারা যাননি। গত ৩ আগস্ট জাহাজ থেকে পড়ে যাওয়া একজন নাবিককে দ্রুত উদ্ধার করা হয়েছিল বলেও জানিয়েছে তারা।
তবে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে জাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণ, নাবিকদের বিশ্রাম এবং সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, নতুন রণতরি মোতায়েনের পর সেই বিষয়গুলো আবারও আলোচনায় এসেছে।
ইরানের বন্দর অবরোধ ‘অনির্দিষ্টকাল’ চলবে: হেগসেথ
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা থমকে যাওয়ার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ চালিয়ে যেতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি ‘অনির্দিষ্টকাল’ বজায় রাখা সম্ভব।
তিনি জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী মার্কিন যুদ্ধজাহাজ পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন করে এই অবরোধ অব্যাহত রাখা হবে।
অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট রণতরি দীর্ঘ সময় সমুদ্রে রেখে দেওয়ার পরিবর্তে একাধিক যুদ্ধজাহাজ পর্যায়ক্রমে মোতায়েন করে অবরোধ বজায় রাখার কৌশল নিতে পারে ওয়াশিংটন।
এর ফলে আব্রাহাম লিংকনকে সরিয়ে জর্জ ওয়াশিংটন পাঠানো হলেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর সামরিক উপস্থিতি কমছে না; বরং দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের জন্য তা পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।
ইরানের ওপর আরও অর্থনৈতিক চাপের প্রস্তুতি
শুধু সামরিক চাপ নয়, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহ থেকে কোনো দেশকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার ক্ষেত্রে ‘নজিরবিহীন’ পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
ইরানের তেল রপ্তানি দেশটির বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। ফলে তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত করা এবং বন্দর ও সমুদ্রপথে চাপ তৈরি করা তেহরানকে আলোচনায় ছাড় দিতে বাধ্য করার জন্য ওয়াশিংটনের অন্যতম কৌশল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
তবে এই কৌশলের বড় ঝুঁকি হলো—ইরানও হরমুজ প্রণালিকে পাল্টা চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি আলোচনাও ভেস্তে গেছে
গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছিল। এতে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনা করে একটি চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা ছিল।
কিন্তু সেই আলোচনা শেষ পর্যন্ত অচলাবস্থায় পড়ে। দুই পক্ষ আবারও পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে।
৬০ দিনের নির্ধারিত সময়সীমা আগামীকাল রোববার শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু নতুন করে সমঝোতা নবায়ন বা আলোচনা শুরুর কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
বরং এই সময়সীমা শেষ হওয়ার মুখে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
ফলে যুদ্ধবিরতির বদলে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পথেই ওয়াশিংটন এগোচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নাটকীয়ভাবে কমেছে
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি।
যুদ্ধের আগে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত। কিন্তু মঙ্গলবার সেখানে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা কমে মাত্র আটটিতে নেমে আসে।
গত ১০ দিনে অবশ্য প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
এই পরিসংখ্যানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ থাকার দাবি এবং ইরানের ‘প্রণালি বন্ধ’ থাকার দাবিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। কারণ বাস্তবে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, আবার যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক অবস্থাতেও নেই।
অর্থাৎ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধও নয়, আবার স্বাভাবিক বাণিজ্যিক নৌপথ হিসেবেও কাজ করছে না।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহে হরমুজ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাসের বড় একটি অংশ এই সরু জলপথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে এখানে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে শুধু ইরান বা যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বের জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় ইতিমধ্যেই সরবরাহব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি আরও দীর্ঘ হলে তেল ও গ্যাসের আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।
‘হরমুজ ইরানের নিয়ন্ত্রণে’, দাবি তেহরানের
যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ নেওয়ার দাবি করলেও ইরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
তেহরানের বক্তব্য, এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই রয়েছে এবং ইরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ সেখানে চলাচল করতে পারবে না।
ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকার দাবিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছেড়ে দেওয়াসহ তেহরানের শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।
ফলে হরমুজ এখন শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দর-কষাকষির অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
অবরোধে চাপে ইরান, পাল্টা চাপের হাতিয়ার হরমুজ
মার্কিন অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস তেল রপ্তানি আরও বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়িয়ে তেহরানকে যুদ্ধবিরতি এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক সমঝোতার দিকে নিয়ে আসা।
কিন্তু ইরানের হাতেও গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশলগত হাতিয়ার রয়েছে—হরমুজ প্রণালি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই জলপথে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ বা সীমিত করে ইরান শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নয়, উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপরও বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
কারণ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতারসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানির বড় অংশ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল।
ফলে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যে কোনো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত আঞ্চলিক অর্থনীতির পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
অচলাবস্থা আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে নতুন বিমানবাহী রণতরি পাঠিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখছে, অন্যদিকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর ‘অনির্দিষ্টকাল’ নৌ অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতার কথা বলছে। পাশাপাশি তেহরানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিকে দর-কষাকষির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ধরে রেখেছে এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ ফেরত দেওয়ার দাবি করছে।
এই দুই বিপরীত অবস্থানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনার অচলাবস্থা কাটার কোনো লক্ষণ না থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নতুন রণতরি মোতায়েনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেছে, প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক চাপ বজায় রাখার প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। আর ইরানের হাতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি—যে জলপথের ওপর নির্ভর করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ।
ফলে সামনে আলোচনার টেবিলে দুই পক্ষ কতটা ছাড় দেয়, তার ওপর শুধু যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নয়, হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিকতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতাও অনেকাংশে নির্ভর করছে।