
দীর্ঘ অপেক্ষা ও নানা জটিলতার পর অবশেষে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তাঁদের প্রাপ্য অবসর ও কল্যাণসুবিধার অর্থ পেতে শুরু করেছেন। আবেদনকারী বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারীর অনুকূলে একসঙ্গে সুবিধার একটি অংশের অর্থ ছাড় করেছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসরসুবিধা বোর্ড এবং শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বছরের পর বছর অবসরসুবিধার অর্থ পেতে অপেক্ষা করতে হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, সরকারের সাম্প্রতিক এই উদ্যোগে তা অনেকটাই কমবে। তবে এবার যে অর্থ দেওয়া হচ্ছে, তা অধিকাংশ আবেদনকারীর মোট প্রাপ্যের পুরোটা নয়। ফলে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রত্যাশা, দ্রুত তাঁদের বাকি অর্থও পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে।
সংশ্লিষ্ট দুটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলছেন, আবেদনকারীদের পুরো প্রাপ্য অর্থ দ্রুত পরিশোধ করতে হলে সরকারের বিশেষ বরাদ্দ প্রয়োজন। কারণ শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় হলেও দীর্ঘদিনের জমে থাকা বিপুলসংখ্যক দাবির তুলনায় তহবিলে অর্থের ঘাটতি রয়েছে।
বছরের পর বছর অপেক্ষা
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণসুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ বহুদিনের। অবসরের পর প্রাপ্য অর্থ হাতে পেতে অনেক শিক্ষক-কর্মচারীকে তিন থেকে চার বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রাপ্য অর্থ পেতে শিক্ষক-কর্মচারীদের হয়রানি ও অতিরিক্ত ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। এমনকি ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। ২০১৫ সালে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের পর অবসরসুবিধা পরিশোধে দীর্ঘসূত্রতা আরও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন।
সম্প্রতি ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন দাবি করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শিক্ষকদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা সুবিধার অর্থ একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারীর অনুকূলে ছাড়ের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দুর্ভোগ কমাতে সরকারের এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।
গত শনিবার বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণসুবিধার অর্থ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই দিনে আবেদনকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের অনুকূলে অর্থ ছাড় করা হয়। অর্থ ছাড়ের তথ্য তাঁদের মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমেও জানানো হয়েছে।
৭০ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারীর অনুকূলে অর্থ ছাড়
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসরসুবিধা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীর অনুকূলে অবসরসুবিধার একাংশের অর্থ ছাড় করা হয়েছে বা হচ্ছে। এ জন্য ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা।
২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত যাঁরা অবসরসুবিধার জন্য আবেদন করেছেন, তাঁদের অনুকূলে এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে। অনেক শিক্ষক-কর্মচারী ইতিমধ্যে তাঁদের অর্থ পেয়েছেন। যাঁরা এখনো পাননি, তাঁদেরও পর্যায়ক্রমে অর্থ দেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে চার হাজারের বেশি আবেদনকারীর আবেদন অসম্পূর্ণ থাকায় তাঁদের অনুকূলে আপাতত অর্থ ছাড় করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া বিভিন্ন আবেদনে তথ্যের ভুল বা অসংগতি থাকায় আরও কিছু আবেদনকারীর অর্থ আটকে আছে।
কল্যাণসুবিধার ক্ষেত্রেও একইভাবে একাংশের অর্থ ছাড় করা হয়েছে। ৫৩ হাজার ৪৭৭টি আবেদনের বিপরীতে প্রায় ৬৪৭ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
একজন শিক্ষক-কর্মচারী চাকরি শেষে অবসরসুবিধার পাশাপাশি কল্যাণসুবিধাও পেয়ে থাকেন। চাকরিকালে তাঁদের বেতন থেকে কেটে রাখা চাঁদার অর্থই মূলত এই সুবিধা দেওয়ার অন্যতম প্রধান উৎস।
কল্যাণসুবিধার ক্ষেত্রে একজন শিক্ষক-কর্মচারী সর্বনিম্ন প্রায় ৫ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত পেয়েছেন বা পাচ্ছেন। অন্যদিকে অবসরসুবিধার ক্ষেত্রে এবার সর্বোচ্চ প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে।
কল্যাণ ট্রাস্টের একজন কর্মকর্তা বলেন, এমন শিক্ষকও আছেন, যাঁরা মাত্র কয়েক মাস চাকরি করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকা পেয়েছেন। তবে অধিকাংশ শিক্ষক-কর্মচারীর প্রাপ্য এর চেয়ে বেশি।
কল্যাণসুবিধার জন্য ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের অনুকূলে এবার অর্থ ছাড় করা হচ্ছে।
কেন পুরো টাকা একসঙ্গে দেওয়া যাচ্ছে না
এবার অর্থ পাওয়ার পরও অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর প্রশ্ন, তাঁদের মোট প্রাপ্যের তুলনায় এত কম টাকা কেন দেওয়া হচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, মূল কারণ তহবিলের অর্থসংকট।
রাজধানীর একটি পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত এক অধ্যক্ষ অবসরসুবিধা বোর্ডের সচিবের দপ্তরে এসে জানতে চান, তাঁর মোট প্রাপ্য অর্থ অনেক বেশি হলেও এবার তুলনামূলকভাবে কম টাকা কেন দেওয়া হয়েছে।
তাঁকে বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আপাতত চাকরিকালে বেতন থেকে কেটে রাখা চাঁদার একটি অংশের অর্থ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর বাকি প্রাপ্য অর্থ পরবর্তী সময়ে পরিশোধ করা হবে। বিষয়টি জানার পর তিনি ফিরে যান।
কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যালয়েও একই চিত্র দেখা গেছে। এক অবসরপ্রাপ্ত নারী শিক্ষক জানান, তিনি প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা পেয়েছেন। তবে তাঁর মোট প্রাপ্যের বাকি অর্থ কবে পাবেন, সেটিই এখন তাঁর প্রশ্ন।
কর্মকর্তারা তাঁকে জানান, পাওয়া অর্থটি কল্যাণসুবিধার একটি অংশ। বাকি অর্থ পরবর্তী সময়ে পরিশোধ করা হবে।
আইবাসের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে টাকা
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি অর্থ পাঠানো হচ্ছে। এ জন্য আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাবসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
ফলে আবেদনে সামান্য ভুল বা অসংগতি থাকলেও অর্থ পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। কোনো কোনো আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, কারও ব্যাংক হিসাব, আবার কারও মনোনীত ব্যক্তির কাগজপত্রে সমস্যা পাওয়া যাচ্ছে।
এ কারণে এসব আবেদনকারীর অর্থ ছাড় আপাতত আটকে রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশোধন ও তথ্য যাচাই শেষে তাঁদের অর্থও পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কল্যাণ ট্রাস্টের এক কর্মকর্তা বলেন, আইবাস প্লাস প্লাসের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ব্যাংক হিসাবের তথ্যের সঙ্গে আবেদনের তথ্য মিলতে হয়। কোনো ভুল থাকলে অর্থ ফেরত আসে। ভুল সংশোধনের পর আবার অর্থ পাঠানো হবে। তাই এ নিয়ে আবেদনকারীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।
অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে ভিড়
রোববার রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন এলাকায় অবস্থিত কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসরসুবিধা বোর্ডের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, টাকা না পাওয়ার বিষয়ে খোঁজ নিতে বেশ কিছু শিক্ষক-কর্মচারী ও তাঁদের স্বজনেরা এসেছেন।
কর্মকর্তারা তাঁদের সমস্যার কথা শুনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে বলছেন। কারও আবেদনে তথ্যের ভুল, কারও ব্যাংক হিসাবের অসংগতি কিংবা কারও মনোনীত ব্যক্তির কাগজপত্রে সমস্যা থাকায় অর্থ ছাড় আটকে আছে বলে তাঁদের জানানো হচ্ছে।
অনেকের ক্ষেত্রে প্রাথমিক যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে অবসরসুবিধার জন্য অপেক্ষা করা শিক্ষক-কর্মচারীদের অনেকেই অবশ্য এবার অর্থ ছাড়ের ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে তাঁদের বড় প্রত্যাশা, একাংশের অর্থ দেওয়ার পর যেন বাকি অর্থ পাওয়ার জন্য আবার দীর্ঘ অপেক্ষায় পড়তে না হয়।
চাঁদা থেকেই বড় অংশের অর্থ
সারা দেশে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ছয় লাখের বেশি। তাঁদের অবসর ও কল্যাণসুবিধা পরিচালিত হয় দুটি পৃথক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। অবসরসুবিধা দেয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসরসুবিধা বোর্ড এবং কল্যাণসুবিধা দেয় শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট।
শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে আদায় করা চাঁদা, ব্যাংকে জমা থাকা অর্থের সুদ, সরকারের বিভিন্ন সময়ে দেওয়া থোক বরাদ্দ এবং বন্ডের মুনাফার ওপর নির্ভর করেই মূলত এসব সুবিধার অর্থ পরিশোধ করা হয়।
অবসরসুবিধার জন্য চাকরিকালে শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৬ শতাংশ এবং কল্যাণসুবিধার জন্য ৪ শতাংশ চাঁদা কেটে রাখা হয়। ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই হারে চাঁদা নেওয়া হয়েছে। এর আগে অবসরসুবিধার জন্য ৪ শতাংশ এবং কল্যাণসুবিধার জন্য ২ শতাংশ হারে চাঁদা নেওয়া হতো।
এ ছাড়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে ১০০ টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭০ টাকা অবসরসুবিধা এবং ৩০ টাকা কল্যাণসুবিধা তহবিলে জমা হয়। বাকি অর্থ সরকার এবং তহবিলে জমা থাকা অর্থের সুদ থেকে সমন্বয় করা হয়।
প্রতি মাসেই বড় ঘাটতি
সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবে, শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে আদায় করা চাঁদা মিলিয়ে অবসরসুবিধার জন্য বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ১০৪ কোটি টাকা জমা হয়। কিন্তু অবসর নেওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাপ্য পুরো অর্থ পরিশোধ করতে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২১০ কোটি টাকা প্রয়োজন হয়।
অর্থাৎ নিয়মিত যে পরিমাণ অর্থ তহবিলে জমা হয়, তার তুলনায় প্রাপ্য সুবিধা পরিশোধের প্রয়োজন প্রায় দ্বিগুণ। ফলে প্রতি মাসেই বড় ধরনের অর্থঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
এ কারণেই দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা আবেদনকারীদের পুরো প্রাপ্য অর্থ একসঙ্গে পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
বর্তমানে ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীর অবসরসুবিধার পুরো অর্থ পরিশোধ করতে প্রয়োজন প্রায় ৯ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। অথচ অবসরসুবিধা বোর্ডে বর্তমানে রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা এবারই দেওয়া হচ্ছে।
ফলে বর্তমান তহবিলের অর্থ দিয়ে আবেদনকারীদের পুরো প্রাপ্য সুবিধা পরিশোধ করা সম্ভব নয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবে, সর্বোচ্চ গ্রেডের একজন শিক্ষক অবসরসুবিধা হিসেবে মোট প্রায় ৩৮ লাখ টাকা এবং কল্যাণসুবিধা হিসেবে প্রায় ১৫ লাখ টাকা পেতে পারেন। তবে গ্রেড, চাকরির মেয়াদ ও অন্যান্য হিসাবের ওপর ভিত্তি করে এই অর্থ কমবেশি হয়।
বিশেষ বরাদ্দের অপেক্ষা
অবসরসুবিধা বোর্ডের সচিব মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ভোগান্তি কমাতে সরকার একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারীকে সুবিধার একটি অংশ দিয়েছে। তাঁদের পুরো প্রাপ্য অর্থ পরিশোধের জন্য সরকারের বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কল্যাণসুবিধার ক্ষেত্রেও একই ধরনের অর্থসংকট রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আবেদনকারীদের পুরো অর্থ পরিশোধ করতে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন।
সরকার এরই মধ্যে অবসরসুবিধা বোর্ডের জন্য ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ২০০ কোটি টাকার বন্ড দিয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আরও ২ হাজার ২০০ কোটি টাকার বন্ড দেওয়া হয়েছিল।
তবে এসব বন্ড থেকে মুনাফা পাওয়া যায় ছয় মাস পরপর। ফলে দীর্ঘদিনের জমে থাকা বিপুলসংখ্যক আবেদনকারীর পুরো প্রাপ্য অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করতে শুধু বন্ডের ওপর নির্ভর করা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি নগদ অর্থ বা বাজেট থেকে বিশেষ বরাদ্দ প্রয়োজন।
অপেক্ষার অবসান চান শিক্ষক-কর্মচারীরা
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছে অবসর ও কল্যাণসুবিধার অর্থ শুধু একটি আর্থিক পাওনা নয়; দীর্ঘ চাকরিজীবনের পর অবসরকালীন জীবনের অন্যতম প্রধান আর্থিক অবলম্বনও এটি। কিন্তু বছরের পর বছর সেই অর্থ আটকে থাকায় অনেকেই অবসরজীবনে আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
এবার একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক আবেদনকারীর অনুকূলে অর্থ ছাড়ের ফলে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার কিছুটা অবসান হয়েছে। তবে একাংশের অর্থ পাওয়ার পরও তাঁদের সামনে রয়ে গেছে বাকি অর্থ পাওয়ার অপেক্ষা।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রত্যাশা, সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় বিশেষ বরাদ্দের ব্যবস্থা করবে এবং অবসর ও কল্যাণসুবিধার বাকি অর্থও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করবে। তাহলে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা ভোগান্তির স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি হবে এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আর প্রাপ্য অর্থের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে না।