
এবারের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৪ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী প্রায় ১৩ লাখ আবেদন করেছে। এর মধ্যে লিখিত বা তত্ত্বীয় পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন পড়েছে ১০ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি। ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতার জন্যও আবেদন হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজারের বেশি।
এবারের পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। এত দিন শিক্ষা বোর্ডের প্রচলিত নিয়মে উত্তরপত্রের নম্বর পুনর্গণনা বা পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ থাকলেও উত্তরপত্র নতুন করে মূল্যায়নের সুযোগ ছিল না। মূলত কোনো প্রশ্নের নম্বর যোগ করতে ভুল হয়েছে কি না, নম্বর ঠিকভাবে খাতায় বা ট্যাবুলেশন শিটে তোলা হয়েছে কি না কিংবা কোনো প্রশ্নের নম্বর বাদ পড়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হতো।
তবে এবার শুধু যোগ-বিয়োগের ভুল খোঁজার মধ্যে প্রক্রিয়াটি সীমাবদ্ধ থাকছে না। আবেদন করা পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নও করা হবে। এর ফলে পরীক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয়েছে কি না, সেটিও যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র নতুন করে যাচাই ও মূল্যায়নের কারণে শিক্ষা বোর্ডগুলোকে বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রয়োজনীয়সংখ্যক পরীক্ষক নিয়োগ, উত্তরপত্র বণ্টন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়ন শেষ করা এখন বোর্ডগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামানের ভাষ্য অনুযায়ী, এবার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক পরীক্ষক নিয়োগ দিতে হচ্ছে। তাঁর মতে, বিপুলসংখ্যক আবেদন বিবেচনায় নিয়ে এ ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
প্রায় ১৩ লাখ আবেদন
গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশের পর ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন নেওয়া হয়। শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১১টি বোর্ডের অধীন মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছে।
তাঁরা সব মিলিয়ে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি আবেদন করেছেন। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্রের জন্য আবেদন হয়েছে ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি। আর ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য আবেদন পড়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি।
একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারেন। ফলে আবেদনকারীর সংখ্যা এবং মোট আবেদনের সংখ্যা এক নয়। একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করায় মোট আবেদনের সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখে পৌঁছেছে।
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের সামগ্রিক চিত্র বিবেচনা করলে পুনর্নিরীক্ষণের এত বিপুল আবেদনের কারণও স্পষ্ট হয়। দীর্ঘ সময় ধরে তুলনামূলকভাবে উচ্চ পাসের হার থাকার পর গত দুই বছর ধরে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
এবার শুধু নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশে। গত ১৯ বছরের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন পাসের হার। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হারও কমেছে। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও প্রায় ১৯ হাজার কমেছে।
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ৩৮ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজারের বেশি। ফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া এবং পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনেও তার প্রতিফলন দেখা গেছে।
ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি আবেদন
বোর্ডভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার সবচেয়ে বেশি পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। ঢাকা বোর্ডের ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার জন্য ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ৫৮ হাজার ১২টি আবেদন করেছে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের জ্যেষ্ঠ সিস্টেম অ্যানালিস্ট মনজুরুল কবীর এ তথ্য জানিয়েছেন।
অন্যান্য বোর্ডেও বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহী বোর্ডে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোর বোর্ডে ২৮ হাজারের বেশি এবং চট্টগ্রাম বোর্ডে ৩৯ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী আবেদন করেছে।
এ ছাড়া বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেট বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুর বোর্ডে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডেও পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ৪০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী আবেদন করেছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে আবেদনকারীর সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি।
অর্থাৎ শুধু একটি বা দুটি শিক্ষা বোর্ড নয়, দেশের প্রায় সব শিক্ষা বোর্ডেই এবার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী আবেদন করেছে।
এত বেশি আবেদন কেন
ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা কেন এত বেশি সংখ্যায় পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন—এ প্রশ্নের সঙ্গে এবারের ফলাফলের ধরন সরাসরি সম্পর্কিত। পাসের হার কমে যাওয়া, জিপিএ-৫ কমে যাওয়া এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী তাঁদের প্রত্যাশিত ফল পাননি।
বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী কোনো একটি বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন কিংবা প্রত্যাশিত গ্রেড পাননি, তাঁদের অনেকেই মনে করছেন মূল্যায়ন বা নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ভুল হয়ে থাকতে পারে। এ কারণেই তাঁরা উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।
তবে শুধু পরীক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ধারণাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও পুনর্নিরীক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে। প্রতি বছর পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনের পর নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন করে উত্তীর্ণ হওয়ার ঘটনা এসব প্রশ্নকে আরও সামনে নিয়ে আসে।
নম্বর যোগ-বিয়োগের ভুল ধরা পড়েছে আগেও
এত দিন ফল পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে মূলত নম্বর গণনার বিষয়টিই যাচাই করা হতো। অর্থাৎ কোনো প্রশ্নের নম্বর দেওয়া হলেও তা মোট নম্বরের সঙ্গে যোগ করা হয়েছে কি না, কোনো নম্বর বাদ পড়েছে কি না কিংবা প্রাপ্ত নম্বর যথাযথভাবে সংশ্লিষ্ট নথিতে স্থানান্তর করা হয়েছে কি না—এসব বিষয় দেখা হতো।
এই প্রক্রিয়ায় প্রতিবছরই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পরীক্ষার্থীর নম্বরে পরিবর্তন আসে। কারও মোট নম্বর বেড়ে যায়, কেউ অকৃতকার্য থেকে উত্তীর্ণ হন, আবার কেউ নতুন করে জিপিএ-৫ অর্জন করেন।
উদাহরণ হিসেবে, গত বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের পর ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৮৬ জন পরীক্ষার্থী। একই প্রক্রিয়ায় ফেল থেকে পাস করেছিল ২৯৩ জন।
এসব ঘটনা থেকে বোঝা যায়, উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফল প্রস্তুতের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় ভুলের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এবার কেন পুনর্মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ
এত দিন ফল পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে একটি সীমাবদ্ধতা ছিল। পরীক্ষার্থী মনে করলেও যে তাঁর উত্তর যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি, পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে সেই মূল্যায়ন নতুন করে যাচাই করার সুযোগ ছিল না। শুধু যোগ-বিয়োগ বা ফল প্রস্তুতের কারিগরি ভুল খোঁজা হতো।
এবার সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের ফলে পরীক্ষার্থীর উত্তরগুলো যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করার সুযোগ তৈরি হবে।
এটি পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। কারণ কোনো শিক্ষার্থী যদি মনে করেন তাঁর উত্তর প্রত্যাশিতভাবে মূল্যায়িত হয়নি, তাহলে এবার শুধু নম্বর গণনার ভুল নয়, উত্তরপত্রের মূল্যায়ন নিয়েও পুনরায় যাচাইয়ের সুযোগ থাকবে।
তবে বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক দক্ষ ও অভিজ্ঞ পরীক্ষক নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও মান বজায় রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ।
পরীক্ষকের সংকট ও মূল্যায়নের চাপ
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, প্রতিবছর লাখ লাখ উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক মানসম্মত পরীক্ষক পাওয়া সহজ নয়। এর সঙ্গে রয়েছে সীমিত সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক খাতা মূল্যায়নের চাপ।
একজন পরীক্ষককে অল্প সময়ে অনেক উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে হলে কাজের চাপ বাড়ে। সেই চাপের মধ্যে কখনো কোনো উত্তর বাদ পড়ে যেতে পারে, নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে অসাবধানতা হতে পারে কিংবা যোগ-বিয়োগের ভুল হতে পারে। এর পাশাপাশি পরীক্ষকের মূল্যায়ন-পদ্ধতিতেও ভিন্নতা থাকার প্রশ্ন থাকে।
ফলে শুধু ফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করাই যথেষ্ট নয়; মূল উত্তরপত্র মূল্যায়নের পুরো প্রক্রিয়াটিকেই আরও কার্যকর ও নির্ভুল করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পরীক্ষক নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরও কঠোর মানদণ্ড, মূল্যায়নের আগে যথাযথ প্রশিক্ষণ, নিয়মিত তদারকি এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ভুলের সম্ভাবনা কমানো সম্ভব।
শিক্ষার্থীদের ওপর প্রভাব
একজন শিক্ষার্থীর কাছে এসএসসি পরীক্ষার ফল শুধু একটি সনদ বা গ্রেড নয়; পরবর্তী শিক্ষাজীবনে কলেজে ভর্তি, পছন্দের বিষয় নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষার পরিকল্পনার সঙ্গেও এ ফল সরাসরি যুক্ত।
ফলে মূল্যায়নে সামান্য ভুলও একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কোনো শিক্ষার্থী যদি একটি বা দুটি নম্বরের জন্য কোনো বিষয়ে অকৃতকার্য হন, তাহলে সেই ভুলের প্রভাব তাঁর পরবর্তী শিক্ষাজীবনে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
একইভাবে, প্রত্যাশার চেয়ে কম নম্বর পাওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থী পছন্দের কলেজ বা বিষয় বেছে নেওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। তাই উত্তরপত্র মূল্যায়নে নির্ভুলতা নিশ্চিত করা এবং ভুল হলে তা সংশোধনের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা জরুরি।
এ কারণে এবারের পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সামনে বড় দায়িত্ব শিক্ষা বোর্ডগুলোর
প্রায় ১৩ লাখ আবেদন সামাল দিতে শিক্ষা বোর্ডগুলোকে এখন একযোগে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাজ সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন করা প্রতিটি উত্তরপত্র যথাযথভাবে শনাক্ত, বণ্টন, পুনর্মূল্যায়ন এবং ফলাফল হালনাগাদ করতে হবে।
এর জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক পরীক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা বজায় রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। কারণ এবার পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনের সংখ্যা আগের তুলনায় বড় হওয়ায় সামান্য ব্যবস্থাপনাগত ভুলও বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে যদি শিক্ষার্থীদের নম্বরে পরিবর্তন আসে, তাহলে তা যেন যথাযথ যাচাইয়ের ভিত্তিতে হয়। একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের ফল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া অনুসরণ করাও জরুরি।
মূল্যায়ন ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের প্রয়োজন
এবার বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুধু ফলাফলের প্রতি শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের বিষয়টিই সামনে আনেনি; বরং দেশের পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন ব্যবস্থার দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
প্রতিবছর লাখ লাখ উত্তরপত্র মূল্যায়নের মতো মানসম্মত পরীক্ষকের ঘাটতি থাকলে এবং সীমিত সময়ের মধ্যে তাঁদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে ভুলের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। এর ফলে যথাযথ মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সুযোগ তৈরি হয়।
তাই শুধু ফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণের ব্যবস্থা বাড়ানোর পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নের মূল ধাপগুলোতেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। পরীক্ষক নির্বাচন, প্রশিক্ষণ, উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময়সীমা, তদারকি এবং ফল প্রস্তুতের প্রতিটি পর্যায়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা কমবে, অন্যদিকে পুনর্নিরীক্ষণের জন্য প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক আবেদন করার প্রবণতাও কমতে পারে।
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রায় ১৩ লাখ পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন তাই শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, মূল্যায়ন ব্যবস্থার প্রতি আস্থা এবং পরীক্ষার ফলের নির্ভুলতার প্রশ্ন। উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের নতুন সুযোগ সেই আস্থা বাড়াতে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।