
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণদের অংশগ্রহণে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতিসংঘের ইয়ুথ টাউন হল ২০২৬। আগামী ৮ থেকে ১০ ডিসেম্বর জার্মানির হাইডেলবার্গে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এক হাজারের বেশি তরুণ অংশ নেবেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তরুণদের বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে মতামত প্রকাশ, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ এবং বিভিন্ন দেশের তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। বাংলাদেশ থেকেও ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণেরা এতে অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
তবে অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত। নির্বাচিত তরুণদের একটি অংশকে জার্মানিতে যাতায়াতসহ সংশ্লিষ্ট কিছু খরচে অর্থসহায়তা দেওয়া হবে।
কারা আয়োজনটির অংশ হবেন
জাতিসংঘের ইয়ুথ অফিস ও এর অংশীদারদের উদ্যোগে এই ইয়ুথ টাউন হলের আয়োজন করা হচ্ছে। এতে শুধু তরুণরাই নন, বিভিন্ন দেশের সরকার, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ, বেসরকারি খাত এবং অন্যান্য অংশীজন অংশ নেবেন।
আয়োজনজুড়ে বড় পরিসরের আলোচনা, ফায়ারসাইড চ্যাট, গোলটেবিল বৈঠক এবং ছোট দলের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এসব সেশনে বিভিন্ন প্রজন্ম ও খাতের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ পাবেন নির্বাচিত তরুণ অংশগ্রহণকারীরা।
ফলে এটি শুধু একটি সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নয়; বরং তরুণদের নিজেদের অভিজ্ঞতা, মতামত ও স্থানীয় পর্যায়ের কাজ আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের তরুণদের জন্য আবেদনের সুযোগ
বাংলাদেশের ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণেরা এই আয়োজনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে শুধু বয়সসীমার মধ্যে থাকলেই আবেদন করা যাবে না; আবেদনকারীর তরুণ নেতৃত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাস্তব অভিজ্ঞতাও থাকতে হবে।
আবেদনকারীর স্থানীয়, জাতীয়, আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত কোনো উদ্যোগ, প্রকল্প, সংগঠন, আন্দোলন বা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
বিশেষ করে তরুণ নেতৃত্ব, অ্যাডভোকেসি, স্বেচ্ছাসেবা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন বা উদ্যোগ পরিচালনার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন, মানবাধিকার, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং আন্তপ্রজন্মীয় সহযোগিতার মতো বিষয়ে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে তা আবেদন মূল্যায়নের সময় বিবেচনায় নেওয়া হবে।
ইংরেজিতে দক্ষতা থাকতে হবে
আবেদনকারীদের ইংরেজি ভাষায় স্বাচ্ছন্দ্যে যোগাযোগ করতে সক্ষম হতে হবে। কারণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই আয়োজনে বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং আলোচনায় অংশ নিতে হবে।
ফলে শুধু লিখিতভাবে ইংরেজি বোঝার সক্ষমতা নয়, বিভিন্ন আলোচনায় নিজের মতামত স্পষ্টভাবে তুলে ধরার মতো যোগাযোগ দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
আবেদনকারীদের আগামী ৮ থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুরো আয়োজনের সময়সূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। একই সঙ্গে আয়োজকদের নির্ধারিত প্রস্তুতিমূলক সভা বা কার্যক্রমেও অংশ নিতে হবে।
অর্থাৎ নির্বাচিত হওয়ার পর শুধু মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেই দায়িত্ব শেষ হবে না; আয়োজনের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করতে হবে।
যেসব অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে
ইয়ুথ টাউন হলের মতো আন্তর্জাতিক আয়োজনে তরুণদের বাস্তব নেতৃত্ব ও সামাজিক সম্পৃক্ততার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কোনো তরুণ যদি স্থানীয় পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন, তরুণদের নিয়ে সংগঠন গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা থাকে, সামাজিক বা মানবাধিকার বিষয়ে অ্যাডভোকেসি করে থাকেন কিংবা কোনো উন্নয়নমূলক উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন, তাহলে তা আবেদনে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে হবে।
একইভাবে শান্তি ও নিরাপত্তা, মানবাধিকার, টেকসই উন্নয়ন অথবা বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে সহযোগিতা তৈরির মতো বিষয়ে কাজের অভিজ্ঞতাও প্রার্থীর জন্য বাড়তি গুরুত্ব বহন করতে পারে।
তাই আবেদনকারীদের নিজেদের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ও কাজের প্রভাব স্পষ্টভাবে তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচিতরা কী সুবিধা পাবেন
এই আয়োজনের জন্য নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীদের একটি সীমিত অংশকে অর্থসহায়তা দেওয়া হবে। এর আওতায় নিজ দেশের বাসস্থান থেকে জার্মানির অনুষ্ঠানস্থল পর্যন্ত যাওয়া-আসার বিমান টিকিটের খরচ দেওয়া হতে পারে।
এ ছাড়া ভ্রমণের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের নির্ধারিত হারে টার্মিনাল খরচ এবং ভ্রমণের সময় দৈনিক ভাতার ব্যবস্থাও রয়েছে।
অর্থাৎ নির্বাচিত ও অর্থসহায়তার আওতায় থাকা অংশগ্রহণকারীদের জন্য জার্মানিতে গিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার বড় একটি আর্থিক চাপ কমে আসতে পারে।
তবে যেহেতু অর্থসহায়তা সীমিতসংখ্যক অংশগ্রহণকারীর জন্য, তাই আবেদন করলেই ভ্রমণসহ সব খরচ পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
ভিসা খরচও ফেরত পাওয়ার সুযোগ
জার্মানিতে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীদের জন্য সহায়তার সুযোগ রয়েছে।
ভিসা ফি পরিশোধ করার পর সংশ্লিষ্ট রসিদ জমা দিলে তা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে বলে আয়োজকদের তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে।
এ ছাড়া প্রতিবন্ধী তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় যৌক্তিক আবাসনের ব্যবস্থায় সহায়তা দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
এর ফলে বিভিন্ন সক্ষমতার তরুণদের আন্তর্জাতিক এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার সুযোগ আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আবেদন করবেন যেভাবে
জাতিসংঘের ইয়ুথ টাউন হল ২০২৬-এ অংশ নিতে আগ্রহী বাংলাদেশি তরুণেরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের শেষ সময়: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট (ইস্টার্ন টাইম)।
আবেদনকারীদের নির্ধারিত অনলাইন ফরমে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনের আগে বয়স, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা, ইংরেজিতে যোগাযোগের সক্ষমতা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো আয়োজন ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত।
অনলাইনে আবেদন: আবেদন ফরম
আয়োজন ও যোগ্যতার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য অপরচুনিটি সার্কেলের বিস্তারিত তথ্য দেখা যেতে পারে।
তরুণ নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম
জাতিসংঘের ইয়ুথ টাউন হলের মতো আয়োজন তরুণদের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের কাজ ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণদের সঙ্গে নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগ তৈরি করে।
বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করা তরুণ নেতৃত্বের জন্য আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারক, জাতিসংঘের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
হাইডেলবার্গে অনুষ্ঠেয় এবারের আয়োজনেও তরুণদের মতামত ও অভিজ্ঞতাকে বৈশ্বিক আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাই নেতৃত্ব, সামাজিক উদ্যোগ, স্বেচ্ছাসেবা বা অ্যাডভোকেসির সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশের তরুণদের জন্য এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের কাজ তুলে ধরার একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ হতে পারে।