
বলিভিয়ার রাজধানী লা পাজের কাছের ভিয়াচা পৌর এলাকায় একটি সামরিক ব্যারাকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর এবং তাঁদের চিকিৎসার জন্য লা পাজের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ভিয়াচা রাজধানী লা পাজ থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। স্থানীয় সময় শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে একটি সামরিক কমপ্লেক্সের ভেতরে আতশবাজি তৈরিতে ব্যবহৃত সামগ্রী সংরক্ষণের এলাকায় বিস্ফোরণটি ঘটে।
বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংরক্ষণ করা আতশবাজির মজুত থেকেই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে
হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ভিয়াচার স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক রিতা নেব্রাস্কা স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে জানিয়েছেন, ঘটনায় ১০ থেকে ১৫ জনের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
তিনি বলেন, বিস্ফোরণে ৬২ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী লা পাজের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণে ৫০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। হতাহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট হয়নি।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর সামরিক কমপ্লেক্স ও আশপাশের এলাকায় উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
আতশবাজির সামগ্রী সংরক্ষণের এলাকায় বিস্ফোরণ
কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণটি সামরিক কমপ্লেক্সের এমন একটি এলাকায় ঘটে, যেখানে আতশবাজি তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংরক্ষণ করা আতশবাজির মজুত থেকেই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে বিস্ফোরণের পেছনে ঠিক কী কারণে ওই মজুত থেকে আগুন বা বিস্ফোরণ শুরু হলো, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিস্ফোরণের পর সামরিক স্থাপনার নিরাপত্তা এবং সেখানে সংরক্ষিত বিভিন্ন উপকরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আশপাশের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত
বিস্ফোরণের তীব্রতায় সামরিক কমপ্লেক্সের বাইরে থাকা বেশ কিছু বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশপাশের অনেক বাড়ির জানালার কাচ ভেঙে গেছে। বিস্ফোরণের শব্দ ও কম্পনে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাস্থলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজও শুরু হয়েছে। সামরিক কমপ্লেক্সের পাশাপাশি আশপাশের বসতবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনার কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা পর্যায়ক্রমে নির্ধারণ করা হবে।
অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসকদল মোতায়েন
বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পর সামরিক কমপ্লেক্সে দ্রুত জরুরি সেবা জোরদার করা হয়। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যেতে ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া চিকিৎসকদল এবং পুলিশের সদস্যদেরও সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ধারকারী ও জরুরি সেবাকর্মীরা আহতদের সরিয়ে নেওয়া এবং ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ করছেন।
গুরুতর আহতদের দ্রুত লা পাজের হাসপাতালগুলোতে নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।
ফের বিস্ফোরণের আশঙ্কা
বিস্ফোরণের পরও ঘটনাস্থলে ঝুঁকি পুরোপুরি কেটে যায়নি বলে সতর্ক করেছে ফায়ার সার্ভিস।
ভিয়াচার স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক রিতা নেব্রাস্কা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে এখনো তাপের উৎস রয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সতর্ক করেছেন। এর ফলে সেখানে আবারও বিস্ফোরণ ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘটনাস্থলের কাছাকাছি না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নেব্রাস্কা স্থানীয় বাসিন্দাদের সামরিক কমপ্লেক্স থেকে অন্তত ১৫০ মিটার দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম চলাকালে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তদন্তের অপেক্ষা
বিস্ফোরণের সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে আতশবাজির মজুতকে সম্ভাব্য উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হলেও কীভাবে সেখানে বিস্ফোরণ শুরু হলো, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
হতাহতের সংখ্যা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য তদন্ত ও উদ্ধার কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যেতে পারে।
এদিকে সামরিক কমপ্লেক্সে জরুরি উদ্ধার ও চিকিৎসা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা তাপের উৎস থেকে নতুন করে বিস্ফোরণের আশঙ্কা থাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক অবস্থায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।