
রাশিয়ার সরকারি মহলে ও রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে একটি শব্দচয়ন নজর কেড়েছে। দীর্ঘদিনের প্রচলিত ‘গ্রেট ব্রিটেন’ কিংবা ‘ইউনাইটেড কিংডম’ (যুক্তরাজ্য) নামের পরিবর্তে দেশটিকে শুধু ‘ব্রিটেন’ হিসেবে উল্লেখ করছেন রুশ কর্মকর্তারা। আপাতদৃষ্টিতে এটি নাম ব্যবহারের সামান্য পরিবর্তন হলেও এর পেছনে যে গভীর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তা রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের একটি মন্তব্য বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ২০২৫ সালে রাশিয়ার কূটনৈতিক কার্যক্রমের ফলাফল পর্যালোচনা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁকে ‘গ্রেট ব্রিটেন’ নামের পরিবর্তে শুধু ‘ব্রিটেন’ বলার কারণ জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে লাভরভ বলেন, কাউকে অপমান করার উদ্দেশ্যে এই শব্দচয়ন করা হচ্ছে না। তবে তাঁর মতে, দেশটিকে শুধু ‘ব্রিটেন’ বলাই যথাযথ। কারণ কোনো দেশ নিজেকে ‘মহান’ বা ‘গ্রেট’ হিসেবে অভিহিত করে—এমন উদাহরণ খুবই বিরল।
লাভরভ বলেন, ‘কাউকে অপমান করার লক্ষ্যে নয়, তবে আমার মনে হয় দেশটিকে এভাবেই ডাকা উচিত। কারণ, কোনো দেশ নিজেই নিজেকে “মহান” বলে অভিহিত করে—এমন একমাত্র উদাহরণ হলো “গ্রেট ব্রিটেন”। আরেকটি উদাহরণ ছিল “গ্রেট লিবিয়ান জামাহিরিয়া”, কিন্তু সেই দেশ এখন আর নেই।’
লাভরভের এই মন্তব্য কেবল শব্দের ব্যবহার নিয়ে রসিকতা নয়; বরং এর মধ্য দিয়ে রাশিয়ার চোখে ব্রিটেনের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে একটি রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মস্কো ও লন্ডনের সম্পর্ক যখন দীর্ঘদিনের মধ্যে সবচেয়ে তলানিতে পৌঁছেছে, তখন দেশটির নাম থেকে ‘গ্রেট’ শব্দটি বাদ দেওয়া সেই বৈরিতার প্রতীকী প্রকাশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
‘গ্রেট’ শব্দটির আসল অর্থ কী
‘গ্রেট ব্রিটেন’ নামটি শুনলে অনেকের কাছে মনে হতে পারে, ‘গ্রেট’ শব্দটি ব্রিটেনের রাজনৈতিক বা সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বোঝায়। বাস্তবে নামটির উৎপত্তি সে অর্থে হয়নি।
ভৌগোলিকভাবে ব্রিটেনকে ফ্রান্সের ব্রিটানি অঞ্চল থেকে আলাদা করে চিহ্নিত করার প্রয়োজন থেকেই ‘গ্রেট ব্রিটেন’ নামটির ব্যবহার শুরু হয়। অর্থাৎ এখানে ‘গ্রেট’ শব্দটির ঐতিহাসিক অর্থ মূলত বৃহত্তর ব্রিটিশ দ্বীপকে বোঝানো, কোনো রাষ্ট্রের মহত্ত্ব বা শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করা নয়।
তবে সময়ের সঙ্গে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিস্তার এবং বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সাম্রাজ্য হিসেবে দেশটির উত্থানের কারণে ‘গ্রেট ব্রিটেন’ নামটির সঙ্গে পরাশক্তির ভাবমূর্তিও জড়িয়ে যায়।
একসময় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিস্তার এতটাই ব্যাপক ছিল যে প্রচলিত হয়ে যায়—‘ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে সূর্য কখনো অস্ত যায় না।’ বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশে ব্রিটিশ উপনিবেশ থাকায় এই কথাটি সাম্রাজ্যের ব্যাপ্তি বোঝাতে ব্যবহৃত হতো।
আজ সেই সাম্রাজ্য নেই। বরং ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও ব্রিটেনের সম্পর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে নামের ব্যবহারও রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
মস্কো-লন্ডন সম্পর্কের অবনতি
রাশিয়া ও ব্রিটেনের সম্পর্কের অবনতি অবশ্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবেই দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে।
রুশ সাম্রাজ্যের সময় ব্রিটেন ছিল বিশ্বের অন্যতম প্রধান পরাশক্তি। উনিশ শতকে মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ায় দুই দেশের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা তীব্র হয়ে ওঠে। রাশিয়ার দক্ষিণমুখী সম্প্রসারণ এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভারতকেন্দ্রিক নিরাপত্তা চিন্তার মধ্যে সংঘাত থেকেই তৈরি হয় দীর্ঘ ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, যা ইতিহাসে ‘দ্য গ্রেট গেম’ নামে পরিচিত।
ক্রিমিয়ার যুদ্ধেও দুই দেশের বৈরিতা প্রকাশ্যে আসে। ১৮৫৩ থেকে ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত চলা ওই যুদ্ধে রাশিয়ার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা জোটে ব্রিটেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এরপরও দুই দেশের পারস্পরিক সন্দেহ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিভিন্ন সময়ে অব্যাহত ছিল। রুশ সাম্রাজ্যের পতন এবং পরবর্তী সোভিয়েত যুগেও ব্রিটেন ও রাশিয়ার সম্পর্ক কখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
বিপ্লব থেকে শীতল যুদ্ধ
১৯০৫ ও ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের মধ্যবর্তী সময়েও ব্রিটিশ নীতির সঙ্গে রাশিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতার সম্পর্ক নিয়ে ঐতিহাসিক বিতর্ক রয়েছে। রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ সংকট ও বিপ্লব-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ব্রিটেনসহ পশ্চিমা শক্তিগুলোর ভূমিকা মস্কোর দৃষ্টিতে দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহের বিষয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই বৈরিতা নতুন রূপ নেয়। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের বিখ্যাত ‘ফুলটন ভাষণ’কে শীতল যুদ্ধের সূচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
১৯৪৬ সালে দেওয়া ওই ভাষণে চার্চিল ইউরোপে সোভিয়েত প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বকে সতর্ক করেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এর আগেও সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের ‘অপারেশন আনথিঙ্কেবল’ নামের একটি পরিকল্পনা তৈরি হয়েছিল। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হয়নি, তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পশ্চিমা শক্তি ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে গভীর অবিশ্বাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে এটি ইতিহাসে জায়গা করে নেয়।
ইউক্রেন যুদ্ধ বদলে দিয়েছে সম্পর্কের সমীকরণ
বর্তমান সময়ে রাশিয়া ও ব্রিটেনের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় বিরোধের জায়গা ইউক্রেন যুদ্ধ।
ইউক্রেনকে সামরিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য অন্যতম সক্রিয়। লন্ডন কিয়েভকে সমর্থনের পাশাপাশি ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত রয়েছে।
রাশিয়ার দৃষ্টিতে ব্রিটেন কেবল ইউক্রেনের একজন সমর্থক নয়; বরং মস্কোর বিরুদ্ধে পশ্চিমা কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
রুশ ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ‘কৌশলগত পরাজয়’ ঘটাতে কিয়েভকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে লন্ডন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইউক্রেনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়ে চুক্তি এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগেও যুক্তরাজ্যের সক্রিয়তা মস্কোর দৃষ্টিতে ব্রিটেনের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে।
বিশেষ করে ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর অনানুষ্ঠানিক নেতৃত্বে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা রাশিয়ার কাছে লন্ডনের অবস্থানকে আরও কঠোর প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরেছে।
কূটনৈতিক সম্পর্কও নেমেছে নিম্ন পর্যায়ে
রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্কের অবনতির আরেকটি লক্ষণ হলো কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া দূরত্ব।
যুক্তরাজ্যে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই কেলিনের কূটনৈতিক দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর মস্কো তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত কাউকে লন্ডনে নিয়োগ দেয়নি। এ নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের মর্যাদা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বলেছে, লন্ডনের আচরণের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক এরই মধ্যে সর্বকালের নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়ায় নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নাইজেল কেসি দুই দেশের বর্তমান সম্পর্কের পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
তবে বাস্তবতা হলো, দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ যতই সীমিত হোক, তা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।
সম্পর্কের মর্যাদা কমে গেলে কী হয়
কূটনৈতিক সম্পর্কের মর্যাদা কমিয়ে দেওয়া শুধু রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কোনো দেশ রাষ্ট্রদূতের পরিবর্তে নিম্নপদস্থ কূটনীতিককে ‘চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স’ হিসেবে দায়িত্ব দিলে তা সাধারণত দুই দেশের সম্পর্কের প্রতি অসন্তোষের একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়।
এর অর্থ হলো, অপর পক্ষের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ কমে গেছে এবং সম্পর্ককে নিম্নতর পর্যায়ে নামিয়ে আনা হচ্ছে।
তবে এই পর্যায় থেকে সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা একটি আরও গুরুতর পদক্ষেপ। সাধারণত বড় ধরনের রাজনৈতিক বা সামরিক সংকটের সময় রাষ্ট্রগুলো এমন সিদ্ধান্ত নেয়।
রাশিয়া ও ব্রিটেনের মতো দুটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন হয়ে গেলে তা শুধু দুই দেশের জন্য নয়, ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক রাজনীতির ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
তাহলে ‘গ্রেট’ বাদ দেওয়ার তাৎপর্য কী?
রুশ কর্মকর্তাদের ‘গ্রেট ব্রিটেন’ না বলে শুধু ‘ব্রিটেন’ বলার ঘটনাটি তাই নিছক ভাষাগত পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ কম। এটি মস্কোর রাজনৈতিক মনোভাব প্রকাশের একটি প্রতীকী উপায়ও হতে পারে।
একসময় যে ব্রিটেন রুশ সাম্রাজ্যের সঙ্গে বিশ্বশক্তির প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল, আজ সেই ব্রিটেনই ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষ। ফলে ব্রিটিশ পরাশক্তির ঐতিহাসিক ভাবমূর্তিকে খাটো করার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রুশ শব্দচয়নে প্রতিফলিত হচ্ছে—এমন ব্যাখ্যাই সামনে এসেছে।
লাভরভের বক্তব্যেও বিষয়টি স্পষ্ট। তিনি সরাসরি বলেছেন, কাউকে অপমান করাই উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু একই সঙ্গে ‘গ্রেট’ শব্দটি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করেছেন।
অর্থাৎ, নামের একটি শব্দ বাদ দেওয়ার মধ্য দিয়ে রাশিয়া মূলত ব্রিটেন সম্পর্কে তার বর্তমান রাজনৈতিক মূল্যায়নের একটি বার্তা দিচ্ছে—ব্রিটেন এখন আর মস্কোর কাছে সেই অর্থে ‘গ্রেট’ নয়, বরং ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার অন্যতম প্রধান পশ্চিমা প্রতিপক্ষ।
সামনে কী হতে পারে
রাশিয়া ও ব্রিটেনের সম্পর্ক দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা এখনো সীমিত। ইউক্রেন যুদ্ধ যতদিন অব্যাহত থাকবে এবং লন্ডন যতদিন কিয়েভের প্রতি শক্ত অবস্থান ধরে রাখবে, ততদিন দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনও অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে একই সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ না করার প্রয়োজনীয়তাও দুই পক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মতবিরোধ ও সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে যোগাযোগের চ্যানেল খোলা রাখা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
‘গ্রেট ব্রিটেন’ থেকে ‘ব্রিটেন’—রুশ সরকারি শব্দচয়নের এই পরিবর্তন তাই শুধু একটি নামের পরিবর্তন নয়। এটি ইতিহাস, সাম্রাজ্য, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বদলে যাওয়া মস্কো-লন্ডন সম্পর্কের একটি প্রতীকী চিত্রও তুলে ধরছে।