
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও সফরে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দুই দিনের এই সফরকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শহরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাজসজ্জার কাজও করা হয়েছে।
চলতি বছরের ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম ঠাকুরগাঁও সফর। সফরের সময় তিনি মা-বাবার কবর জিয়ারত, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি ও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেবেন। দ্বিতীয় দিনে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কর্মসূচি রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম লুৎফর রহমানের স্বাক্ষর করা কর্মসূচি অনুযায়ী, রোববার বেলা পৌনে ১২টার দিকে হেলিকপ্টারে ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে পৌঁছাবেন রাষ্ট্রপতি। পরে তিনি সার্কিট হাউসে গিয়ে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন।
এরপর সেনুয়া কবরস্থানে মা-বাবার কবর জিয়ারত করবেন মির্জা ফখরুল। বিকেল ৩টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। অনুষ্ঠান শেষে তিনি নিজ বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। রাতে সেখানেই থাকবেন।
সোমবার সকালে আবারও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি ও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। কর্মসূচি শেষে সার্কিট হাউসে ফিরে গার্ড অব অনার গ্রহণ করে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি। তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায়। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন।
ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে ঢাকা কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। বিভিন্ন সরকারি দায়িত্ব পালনের পর আবার শিক্ষকতায় ফেরেন। ১৯৮৮ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগ দেন মির্জা ফখরুল। পরের বছর তাঁকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়। ২০০১ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান তিনি। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে মহাসচিব নির্বাচিত হন। দীর্ঘ সময় এ দায়িত্বে থাকার পর ২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।