
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘গুপ্ত’ প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তবে জবাব দিতে গিয়ে তিনি সরাসরি তারেক রহমানের নাম উল্লেখ করেননি।
শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের লালদীঘির ময়দানে ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ‘গুপ্ত’ প্রসঙ্গটি তুলে ধরেন জামায়াতের আমির। এ সময় তিনি রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করে অপরাধ ও অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে সমালোচনা করেন।
সমাবেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকারি দলের লোকেরা এখন সন্ত্রাসে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। চুরি-ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়েছে।’
এরপর ঢাকার বিমানবন্দরে এক প্রবাসীর স্বর্ণ ছিনতাইয়ের সাম্প্রতিক একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ছিনতাইয়ের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নিজেদের আওয়ামী লীগের লোক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। কিন্তু আটকের পর তাদের বিএনপির লোক বলে দেখা গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘এ একেই বলে গুপ্ত। যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, দুর্নীতি করে, সেই হচ্ছে সবচেয়ে বড় গুপ্ত।’
তারেক রহমানের বক্তব্যে ‘গুপ্ত’ প্রসঙ্গ
এর আগে শনিবার বিকেলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সেখানে তিনি বিগত স্বৈরাচারী শাসনের সময়ে যারা ‘গুপ্ত’ অবস্থায় লুকিয়ে ছিলেন, তাঁদের মধ্য থেকে কেউ কেউ এখন দেশে অরাজকতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন কি না—এমন প্রশ্ন তোলেন।
তারেক রহমান বলেন, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কেউ দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের সময়ে একটি রাজনৈতিক দল ‘গুপ্ত বেশ’ ধারণ করেছিল। পরে ওই দলের নিজেদের লোকজনই বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন—এমন অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর পেছনে কারা রয়েছে, তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
কোনো দলের নাম বলেননি প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে ওই রাজনৈতিক দলের নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি। তবে বক্তব্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ‘গুপ্ত’ শব্দের ব্যবহারের কারণে এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, তাঁর বক্তব্যের ইঙ্গিত জামায়াতে ইসলামীর দিকে ছিল। যদিও বক্তব্যে কোনো দলের নাম সরাসরি উল্লেখ না থাকায় এটি একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
এর কয়েক ঘণ্টা পর চট্টগ্রামের সমাবেশে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানও ‘গুপ্ত’ শব্দটি ব্যবহার করে বক্তব্য দেন। তিনি রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করে অপরাধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টিকে ‘সবচেয়ে বড় গুপ্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক
দুই শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যে একই দিনে ‘গুপ্ত’ শব্দের ব্যবহারকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও কেউই সরাসরি অপর পক্ষের নাম উল্লেখ করেননি, বক্তব্যের সময়, স্থান ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তারেক রহমানের বক্তব্যে মূলত রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করে অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগের প্রসঙ্গ উঠে আসে। অন্যদিকে শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে পরিচয় গোপন করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ সামনে আনেন।
চট্টগ্রামের সমাপনী সমাবেশে শফিকুর রহমানের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল সরকারি দলের লোকজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চুরি ও ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ। এ সময় তিনি বিমানবন্দরে প্রবাসীর স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
অন্যদিকে তারেক রহমানের বক্তব্যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা নিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
ফলে একই দিনে দুই নেতার বক্তব্যে ‘গুপ্ত’ শব্দের পৃথক রাজনৈতিক ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করলেও দুই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।