
মালয়েশিয়ার ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির বাংলাদেশ ক্যাম্পাসে সেপ্টেম্বর ২০২৬ সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নতুন শিক্ষার্থী, তাঁদের অভিভাবক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা অংশ নেন।
দুই পর্বে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে নতুন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, একাডেমিক পরিবেশ এবং উচ্চশিক্ষার পথচলা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁদের নতুন শিক্ষাজীবনে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে নতুন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ক্যাম্পাসের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ কুশাইরি বিন মুহাম্মদ রাজুদ্দিন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট একাডেমিক অধ্যাপক এইচ এম জহিরুল হক।
বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষার সুযোগের কথা তুলে ধরলেন কর্মকর্তারা
নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ কুশাইরি বিন মুহাম্মদ রাজুদ্দিন বলেন, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বিশ্বের শীর্ষ ৩০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এবং এশিয়ায় অষ্টম অবস্থানে রয়েছে। এমন একটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা তাঁদের উচ্চশিক্ষার যাত্রা শুরু করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি নতুন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, উচ্চশিক্ষার এই সময়টি নিজেদের দক্ষতা ও জ্ঞান বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও অন্যান্য সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রতি মনোযোগী হতে হবে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট একাডেমিক অধ্যাপক এইচ এম জহিরুল হক নতুন শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাঁদের স্বপ্নপূরণের যাত্রা এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শুরু হয়েছে, যা শুধু মালয়েশিয়াতেই নয়, বিশ্বপরিসরেও অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।
তিনি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে নিজেদের ভবিষ্যৎ প্রস্তুত করার আহ্বান জানান। নতুন শিক্ষাজীবনে নিয়মিত অধ্যয়ন, দক্ষতা অর্জন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের শুভেচ্ছা
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ফ্যাকাল্টি অব কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ডিজিটাল ইনোভেশনের ডিন অধ্যাপক সৈয়দ আখতার হোসেন, ফ্যাকাল্টি অব এফবিএমের ডিন মোহাম্মদ জে মুনির এবং ফ্যাকাল্টি অব সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড লিবারেল আর্টসের ডিন জোহা রহমান।
তাঁরা নতুন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া এবং নিজেদের একাডেমিক ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক শাহ সামিউর রশিদ। তিনি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মনীতি অনুসরণ করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
অভিভাবকদের উদ্দেশে বক্তব্য
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাঁদের অভিভাবকদেরও স্বাগত জানানো হয়। অভিভাবকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট মেজর (অব.) সুমন সুবহান।
তিনি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার যাত্রায় অভিভাবকদের সহযোগিতা ও উৎসাহের গুরুত্ব তুলে ধরেন। নতুন পরিবেশে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অগ্রগতি ও সামগ্রিক বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয় ও পরিবারের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
নবীনবরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের একটি আনুষ্ঠানিক পরিচিতিও তৈরি হয়। এতে শিক্ষার্থীরা তাঁদের নতুন শিক্ষাজীবনের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ পান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিজেদের পথচলার সূচনা করেন।
শিক্ষার্থীদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান
দুই পর্বের নবীনবরণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নোরা সাবরিন রাহা ও আবিদা আফসারা গোলন্দাজ। তাঁদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
সেপ্টেম্বর সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই নবীনবরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ক্যাম্পাসে নতুন একাডেমিক সেশনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। নতুন শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার যাত্রাকে আরও সফল ও অর্থবহ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একাডেমিক পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার প্রত্যয়ও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।