
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬-এর পুনর্নিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হবে। সকাল ১০টার দিকে শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হবে। আজ বুধবার আন্তশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুনর্নিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল তিনভাবে জানা যাবে। প্রথমত, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হবে। দ্বিতীয়ত, পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করার সময় পরীক্ষার্থীর দেওয়া মুঠোফোন নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানানো হবে। এ ছাড়া নির্ধারিত ওয়েবসাইট থেকেও ফল সংগ্রহ করা যাবে।
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি আবেদন করেছেন। এর মধ্যে লিখিত বা তত্ত্বীয় পরীক্ষার উত্তরপত্রের জন্য আবেদন পড়েছে ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি। আর ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতার জন্য আবেদন জমা পড়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি।
এবার হবে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন
এবারের পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। এত দিন শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রচলিত নিয়মে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ ছিল না। পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনের পর সাধারণত উত্তরপত্রে পরীক্ষকের দেওয়া নম্বরের যোগ-বিয়োগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, কোনো প্রশ্নের উত্তর মূল্যায়ন করা বাদ পড়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হতো।
তবে এবার বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন ও পুনর্নিরীক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় শিক্ষা বোর্ডগুলোকে বাড়তি চাপের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এ জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক পরীক্ষকও নিয়োগ দিতে হচ্ছে।
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, এবার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক পরীক্ষক নিয়োগ দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া এ ক্ষেত্রে আর কোনো বিকল্প নেই।
ফল পুনর্নিরীক্ষণে বড় আবেদন
গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। দীর্ঘদিন তুলনামূলকভাবে উচ্চ পাসের হার থাকার পর গত দুই বছর ধরে এসএসসির ফলাফলে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এবার শুধু নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার নেমে এসেছে ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশে, যা ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে প্রায় ১৯ হাজার।
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবার গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ৩৮ শতাংশ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজারের বেশি।
ফলে ফলাফল প্রকাশের পর পাসের হার কমে যাওয়া এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনের ক্ষেত্রেও। এবার আগের তুলনায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ের ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছেন।
১১ দিনে আবেদন ১২ লাখ ৮৭ হাজারের বেশি
ফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয় ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত। শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি আবেদন করেছেন।
এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্রের জন্য ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি আবেদন জমা পড়েছে।
একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারেন। ফলে আবেদনকারীর সংখ্যা ও মোট আবেদনের সংখ্যার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ে আবেদন করায় মোট আবেদনের সংখ্যা ১২ লাখ ৮৭ হাজার ছাড়িয়েছে।
ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি আবেদন
শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এবার সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডের ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার জন্য ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ৫৮ হাজার ১২টি আবেদন করেছেন।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের জ্যেষ্ঠ সিস্টেম অ্যানালিস্ট মনজুরুল কবীর সম্প্রতি প্রথম আলোকে এসব তথ্য জানান।
অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোর শিক্ষা বোর্ডে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি এবং দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে ৩৭ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছেন।
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে একাধিক বিষয়ের ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছেন ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী।
এ ছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছেন।
তিনভাবে ফল জানার সুযোগ
পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর পরীক্ষার্থীদের আলাদাভাবে শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে ফল সংগ্রহ করতে হবে না। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশের পাশাপাশি আবেদন করার সময় দেওয়া মুঠোফোন নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে ফল জানানো হবে। এ ছাড়া পুনর্নিরীক্ষণের জন্য নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকেও ফল দেখা যাবে।
ফলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর পরীক্ষার্থীরা নিজেদের ফলাফল তিনটি মাধ্যমে জানতে পারবেন—নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট, মুঠোফোনে এসএমএস এবং নির্ধারিত অনলাইন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে।