
দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রামের (এসআইসিআইপি–SICIP) সঙ্গে চুক্তি করেছে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়। এ চুক্তির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মানের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) দক্ষতা উন্নয়ন এবং জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হবে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড রুমে এসআইসিআইপি ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগামী অক্টোবর থেকে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে। চলবে ২০২৮ সালের জুলাই পর্যন্ত। এ সময়ে মোট ১ হাজার ২০০ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। তাঁদের মধ্যে রাজশাহী কেন্দ্রে ৪৫০ জন এবং ঢাকার কেন্দ্রে ৭৫০ জন প্রশিক্ষণ নেবেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসআইসিআইপির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাহী প্রোগ্রাম পরিচালক মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসেন, যুগ্ম সচিব ও উপনির্বাহী প্রোগ্রাম পরিচালক মাইনুল হাসান, উপসচিব ও সহকারী নির্বাহী প্রোগ্রাম পরিচালক মো. মতিউর রহমান এবং উপসচিব ও সহকারী নির্বাহী প্রোগ্রাম পরিচালক মৌরীন করিম।
বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক মো. খাদেমুল ইসলাম মোল্যা, নির্বাহী পরিচালক মো. শামিম আহসান পারভেজ, পাবলিক হেলথ প্রোগ্রামের ভিজিটিং অধ্যাপক মো. মুনসুর আহমেদসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধানেরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার লে. কর্নেল মো. খালেদ বিন ইউসুফ (অব.)।
যেসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে ক্লাউড কম্পিউটিং, ডেটা ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং এবং নেটওয়ার্ক প্রশাসন।
বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারে এসব প্রযুক্তি দক্ষতার চাহিদা বিবেচনায় রেখে প্রশিক্ষণের বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাপানে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বিবেচনায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জাপানি ভাষা শেখানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন সনদ অর্জনের সুযোগ থাকবে। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা একদিকে যেমন প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের ক্ষেত্রেও বাড়তি সুবিধা পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
চাকরির বাজারে প্রবেশে সহায়তা
শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়ার মধ্যেই কর্মসূচিটি সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রশিক্ষণার্থীদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে সহায়তা করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিল্প খাতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে যুক্ত করার পাশাপাশি জাপানসহ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির চেষ্টা থাকবে।
এর ফলে উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য নিজ এলাকায় থেকেই আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি ও ভাষাগত দক্ষতার সমন্বয়ে তাঁদের আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উত্তরাঞ্চলের গ্র্যাজুয়েটদের জন্য সুযোগ
বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. খাদেমুল ইসলাম মোল্যা বলেন, রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের আইসিটি গ্র্যাজুয়েটদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। এ কর্মসূচির মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের গ্র্যাজুয়েটরা নিজেদের এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, গ্র্যাজুয়েটদের শুধু ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং সম্ভাবনাময় ও চাহিদাসম্পন্ন খাতে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি তাঁদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মজীবনে প্রবেশের প্রস্তুতিতেও সহায়তা করবে।
একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনের তাগিদ
অনুষ্ঠানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রামের নির্বাহী প্রোগ্রাম পরিচালক মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না; কর্মক্ষেত্রের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দক্ষতাও অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এ উদ্যোগের মাধ্যমে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের গ্র্যাজুয়েটরা আন্তর্জাতিক মানের আইসিটি দক্ষতা ও জাপানি ভাষায় প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে তাঁরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের জন্য নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টদের আশা, এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উত্তরাঞ্চলের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি ও জাপানি ভাষার মতো চাহিদাসম্পন্ন দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের দেশীয় চাকরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগও বাড়বে।