
চুক্তি নিয়ে হতাশা প্রকাশের একদিন পরই মাঠে তার জবাব দিলেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে লিভারপুল যখন পিছিয়ে পড়েছিল, তখন ঘুরে দাঁড়িয়ে ২–১ ব্যবধানে জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার।
ম্যাচের আগের দিনই ম্যাক অ্যালিস্টার জানিয়েছিলেন, নতুন চুক্তির ব্যাপারে ক্লাবের কাছ থেকে আপাতত কোনো প্রস্তাব পাননি তিনি। তাঁর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ অবশ্য ২০২৮ সাল পর্যন্ত। তাই নতুন চুক্তি নিয়ে লিভারপুলের তাড়াহুড়ো না থাকলেও বিষয়টি নিয়ে নিজের অসন্তোষ লুকাননি এই বিশ্বকাপজয়ী তারকা।
অ্যানফিল্ডে অবশ্য শুরুটা ভালো হয়নি লিভারপুলের। ১৭ মিনিটে মার্কোস ইয়োরেন্তের গোলে এগিয়ে যায় আতলেতিকো। অ্যানফিল্ডে ইয়োরেন্তের দুর্দান্ত রেকর্ডও আরও সমৃদ্ধ হলো—লিভারপুলের মাঠে সর্বশেষ তিন সফরে এটি তাঁর পঞ্চম গোল। এর আগে ২০২০ সালে এই মাঠেই জোড়া গোল করে লিভারপুলকে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায় করার স্মৃতিও আছে তাঁর।
পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ হারায়নি লিভারপুল। ৪০ মিনিটে দমিনিক সোবোসলাইয়ের গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকেরা।
বিরতির পর আসে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত গতির শটে গোল করে লিভারপুলকে এগিয়ে দেন ম্যাক অ্যালিস্টার। গোলের পর অ্যানফিল্ডের দর্শকদের সামনে তাঁর উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। আগের দিনের হতাশার সঙ্গে সেই উদ্যাপনের কোনো মিলই ছিল না।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ২–১ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে লিভারপুল।
ইতালির মাটিতে কঠিন ম্যাচেও জয় দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের যাত্রা শুরু করেছে আর্সেনাল। নাপোলির বিপক্ষে ম্যাচটি যখন গোলশূন্য ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখন দলের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের অসাধারণ এক শট বদলে দেয় পুরো চিত্র।
ডি-বক্সের বাইরে থেকে বাঁকানো শটে নাপোলির গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ওডেগার্ড। তাঁর সেই গোলেই জয় নিশ্চিত করে গানাররা। কমিউনিটি শিল্ডসহ চলতি মৌসুমে পাঁচ ম্যাচে এটি আর্সেনাল অধিনায়কের চতুর্থ গোল।
তবে গোল পাওয়ার আগেই ম্যাচটি নিজেদের করে নেওয়ার একাধিক সুযোগ পেয়েছিল আর্সেনাল। অন্তত তিনটি বড় সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তারা। ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ম্যাচে উত্তেজনা ধরে রেখেছিল নাপোলি।
ওডেগার্ডের গোলটির পেছনে ছিল আর্সেনালের দারুণ দলগত সমন্বয়। গোলের আগে টানা ২৯টি পাস খেলেছিল আর্সেনাল। ২০০৩–০৪ মৌসুমের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনালের কোনো গোলের ক্ষেত্রে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাসের ধারাবাহিকতা।
এর চেয়ে বেশি পাসের পর গোল হয়েছিল ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে বাসেলের বিপক্ষে লুকাস পেরেজের গোলটিতে—সেবার গোলের আগে আর্সেনাল খেলেছিল ৩৩টি পাস।
গত মৌসুমে ফাইনালে ওঠার পথে গ্রুপ পর্বের আট ম্যাচেই জয় পেয়েছিল আর্সেনাল। নতুন মৌসুমেও ইতালির কঠিন পরীক্ষায় জয় দিয়ে শুরু করায় মিকেল আর্তেতার দল যে এবারও বড় কিছুর লক্ষ্যেই এগোচ্ছে, তার ইঙ্গিত মিলল শুরুতেই।