
আর্থিক অনিয়ম ও তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগে দুই দেশের সাবেক ফুটবল ফেডারেশন সভাপতিকে আজীবন ফুটবল-সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। তাঁদের একজন মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি বাসাম আদিল জলিল। অন্যজন ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের মন্টসেরাট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের দীর্ঘদিনের প্রধান ভিনসেন্ট ক্যাসেল।
ফিফার অভিযোগ, দায়িত্বে থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থের সংঘাত এবং ফেডারেশন ও ফিফার অর্থের অনিয়মিত ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন ক্যাসেল। প্রায় তিন দশক মন্টসেরাট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করার পর গত বছরের ডিসেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে তিনি পদ ছাড়েন।
মালদ্বীপের সাবেক ফুটবল সভাপতি বাসাম আদিল জলিলের বিরুদ্ধে ফিফার কোভিড-১৯ ত্রাণ তহবিলের অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে তাঁকে ফুটবলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কার্যক্রম থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করেছে ফিফা।
করোনাকালে ২০২০ সালে ফিফা সদস্য দেশগুলোর জন্য অনুদান ও ঋণ মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৫০ কোটি ডলারের সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফিফার কাছ থেকে পাওয়া প্রায় ১২ লাখ ডলার আত্মসাতের মামলায় জলিলকে ২৩ বছরের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় ফুটবল ক্লাবগুলোর জন্য বরাদ্দ ওই অর্থের একটি অংশ ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা হয় এবং সেই অর্থ দিয়ে ফ্ল্যাট কেনা হয়েছিল।
ভিনসেন্ট ক্যাসেলের বিরুদ্ধে শুধু তহবিল ব্যবহারে অনিয়ম নয়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও একাধিক স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগও এনেছে ফিফা।
২০১১ সালে কাতারের মোহাম্মদ বিন হাম্মাম ফিফা সভাপতি নির্বাচনে সেপ ব্ল্যাটারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ওই সময় ক্যারিবিয়ান ফুটবল কর্মকর্তাদের প্রত্যেককে ৪০ হাজার ডলার করে ঘুষ দেওয়ার ঘটনায় ক্যাসেল ও মন্টসেরাট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক তানদিকা হিউজের নামও উঠে আসে। সে ঘটনায় তাঁদের ফিফার তৎকালীন স্বাধীন নৈতিকতা কমিটির সামনে হাজির হতে হয়েছিল।
এরপরও দীর্ঘদিন তাঁরা মন্টসেরাট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।
গত এপ্রিলে মন্টসেরাটের একটি আদালতে কর ফাঁকির অভিযোগ স্বীকার করেন ক্যাসেল ও হিউজ। তাঁদের বিদায়ের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মন্টসেরাট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনে জরুরি ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়োগ করে ফিফা।
ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংকট ও প্রাতিষ্ঠানিক অচলাবস্থার কারণে সংস্থাটির দৈনন্দিন কার্যক্রম সরাসরি তদারকির প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল।
ক্যাসেলের বিরুদ্ধে কর্মকর্তাদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন হয়—এমন আচরণের অভিযোগও রয়েছে। তাঁকে ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে অনুপযুক্ত লেনদেন থেকে সুবিধা নেওয়া ও তাতে সহযোগিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তানদিকা হিউজকে ১৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাঁকে ১ লাখ ৮৪ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে।
মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক অর্থ পরিচালক মোহাম্মদ আকিলকেও শাস্তি দিয়েছে ফিফা। তাঁকে ১০ বছরের জন্য ফুটবল-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ১ লাখ ২৩ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে।
ফিফার অভিযোগ, তহবিলের অপব্যবহার আড়াল করা ও এতে সহযোগিতা করা, জাল নথি ব্যবহার এবং নৈতিকতা কমিটির তদন্তে সহযোগিতা না করার মতো অনিয়মে জড়িত ছিলেন আকিল।