
২০২৬ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষা ও হাইকোর্ট এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া অর্ধশতাধিক সাবেক শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা ক্রেস্ট দিয়েছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগ।
আইন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘Advocate Felicitation Program 2026’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বেজমেন্ট হল রুম-২-এ নবীন আইনজীবীদের এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম।
অনুষ্ঠানে নবীন আইনজীবীদের পেশাগত জীবনে সততা, নৈতিকতা, নিষ্ঠা ও নিয়মিত জ্ঞানচর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলাম। তিনি বলেন, আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শুধু আইনের জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতা অর্জন করলেই হবে না; ন্যায়বিচার, মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার প্রতিও অঙ্গীকারবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি নবীন আইনজীবীদের ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের সঙ্গে পেশাগত জীবনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে আইনজীবীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম নবীন আইনজীবীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে অবদান রাখতে হবে।
উপাচার্য আইন বিভাগের অ্যালামনাইদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, সাবেক শিক্ষার্থীরা পেশাগত জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে বর্তমান শিক্ষার্থীরাও তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক কাজী লতিফুর রেজা। তিনি নবীন আইনজীবীদের পেশাগত অর্জনের জন্য তাঁদের অভিনন্দন জানান এবং আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিদের তাঁদের উপস্থিতি ও সহযোগিতার স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সংযুক্ত কর্মকর্তা (অতিরিক্ত জেলা জজ) মো. আতীকুস সামাদ; বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য ও বার কাউন্সিল রিলিফ কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য ও আইন সংস্কার কমিটির চেয়ারম্যান আইনজীবী মো. মাহফুজুর রহমান মিলন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের অ্যালামনাই সৈয়দ সারোয়ার আলম নিশানকে ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি ল’অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারির দায়িত্বও পালন করছেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি ল’অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আতিকুর রহমান সোহান বক্তব্য দেন। অ্যালামনাইদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা মো. মাজহারুল ইসলাম মারুফ। তাঁরা নবীন আইনজীবীদের অভিনন্দন জানান এবং পেশাগত জীবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
পরে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষা ও হাইকোর্ট এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া অর্ধশতাধিক সাবেক শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। তাঁদের এই অর্জনের পেছনে পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানের কথাও অনুষ্ঠানে স্মরণ করা হয়।
বক্তারা বলেন, একজন আইনজীবীর পেশাগত সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকার সুরক্ষা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই নবীন আইনজীবীদের পেশাগত জীবনের শুরু থেকেই সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের প্রভাষক ও কো-অর্ডিনেটর মো. রাজিউল আলিম। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নবীন আইনজীবীদের পেশাগত অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।