
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের সৎ সাহস থাকলে দেশে ফিরে এসে আইন ও আদালতের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, জনগণের আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা হারানোর পর দেশে থাকার সাহস না থাকায় আওয়ামী লীগের নেতারা বিদেশে অবস্থান করছেন। এখন সেখান থেকে তাঁরা বিভিন্নভাবে আস্ফালন ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন।
রোববার দুপুরে পঞ্চগড় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।
জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ হলো ‘স্বৈরাচারের’ পতন। তাঁর দাবি, প্রায় ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ অনির্বাচিত, রাতের এবং বিনা ভোটের সরকার দেখেছে। এ সময়ে মানুষের ওপর বিভিন্ন ধরনের অত্যাচার-নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘তাদের সৎ সাহস ছিল না জনগণের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগের পরে দেশে থাকার। এখন ওনারা বাইরে বসে অনেক আস্ফালন করছেন।’
‘সৎ সাহস থাকলে দেশে ফিরে আসুন’
আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশে জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপি ‘ঘুপচি আন্দোলন’ বা গোপন রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না; তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। তাই আওয়ামী লীগের নেতাদের দেশে ফিরে এসে সরাসরি রাজনীতির মাঠে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা ওই ঘুপচি আন্দোলন বা ঘুপচি রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আমার কথা হচ্ছে আপনাদের যদি সৎ সাহস থাকে, তাহলে সামনে আসেন।’
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মানুষ হত্যা, দেশের সম্পদ লুণ্ঠন এবং মেগা প্রকল্পের নামে দুর্নীতির অভিযোগও করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব অভিযোগের হিসাব বাংলাদেশের মাটিতেই হবে।
জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আইন আদালতের মাধ্যমে মুখোমুখি হন, আপনাদের যদি সৎ সাহস থাকে, তাহলে তো পালিয়ে থাকার দরকার নাই। অন্য দেশে গিয়ে আশ্রয় নেওয়ারও দরকার পড়ে না।’
তিনি আরও বলেন, আইন ও আদালতের প্রক্রিয়ায় যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নির্দোষ প্রমাণিত হন, তাহলে গণতন্ত্রকামী মানুষ সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেবে।
‘বিদেশ থেকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে’
আওয়ামী লীগের নেতারা তাঁদের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে অবগত বলেও মন্তব্য করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এ কারণেই বিদেশে অবস্থান করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
জাহিদ হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারা তাঁদের অবস্থান বুঝতে পেরেছেন। এ জন্যই তাঁরা বিদেশ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্নভাবে এবং এআইয়ের মাধ্যমে নানা ধরনের উসকানি দিচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বক্তব্য ঘিরে নেতা-কর্মীদের হট্টগোল
এদিকে মতবিনিময় সভা শুরুর পর মন্ত্রীর উপস্থিতিতেই বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নেতা-কর্মীদের মধ্যে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
আসাদুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে বিএনপিকে ‘হাইব্রিড মুক্ত’ করার দাবি জানান। তিনি বলেন, বোদা থেকে পঞ্চগড়ে এসে একসময় ‘এই আসাদ’ পার্টি অফিসের দরজা খুলেছিলেন।
তাঁর এ বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে সভাস্থলে হইচই ও হট্টগোল শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মন্ত্রীসহ উপস্থিত অন্য নেতারা হস্তক্ষেপ করে নেতা-কর্মীদের শান্ত করেন।
পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মতবিনিময় সভার কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। সভায় স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সমাজকল্যাণমন্ত্রী দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থান এবং দলটির নেতাদের দেশে ফিরে আইনগত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন।