
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে জাতিগত সহিংসতা নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিনে তামেনগ্লং ও নোনে জেলায় কুকি-জো সম্প্রদায়ের বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর এবার কাংপোকপি জেলার একটি নাগা গ্রামে সশস্ত্র হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পাল্টাপাল্টি এসব হামলায় মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।
সর্বশেষ ১৫ সেপ্টেম্বর তামেনগ্লং জেলার লেইসাংফাই এলাকায় দুই কুকি-জো নারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহতদের পরিচয় বিভিন্ন স্থানীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে ফালনেইচং ওরফে চোঙ্গা সিটলহো এবং কিমজালহাই ওরফে কিমবোই সিংসন হিসেবে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বয়স নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে; স্থানীয় সংগঠনগুলোর হিসাবে একজনের বয়স ৭৬ এবং অন্যজনের ২৮ বছর।
এই হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাংপোকপি জেলার চাওয়াংকিনিংয়ের একটি নাগা গ্রামে সশস্ত্র হামলা হয়। সেখানে দুটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং হামলাকারীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) সদস্যদের কয়েক ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি চলে। ওই ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনাগুলো মণিপুরের দীর্ঘদিনের মেইতেই-কুকি সংঘাতের বাইরে পাহাড়ি অঞ্চলে নাগা-কুকি উত্তেজনাকেও নতুন করে সামনে এনেছে। একই সঙ্গে রাজ্যটির প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকাগুলোতে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের সময় গুলিতে দুই নারী নিহত
১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টার দিকে তামেনগ্লং জেলার লেইসাংফাই এলাকায় দুই নারী গুলিবিদ্ধ হন। কুকি-জো সংগঠনগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা কৃষিকাজ ও জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের কাজে এলাকায় ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা পরে তাঁদের মরদেহ দেখতে পান।
কিমবোই সিংসন সম্প্রতি নার্সিংয়ের পড়াশোনা শেষ করেছিলেন বলে স্থানীয় সংগঠনগুলো জানিয়েছে। তিনি পরিবারের সঙ্গে কৃষিকাজে সহায়তা করতে বাড়িতে ফিরেছিলেন। অন্যদিকে ফালনেইচং সিটলহো স্থানীয়ভাবে বয়স্ক এক নারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
হামলার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকজন গ্রামবাসী নিখোঁজ রয়েছেন বলেও স্থানীয় সূত্রের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে নিখোঁজের সঠিক সংখ্যা বা তাঁদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
হামলাকারীদের পরিচয় নিয়েও এখনো নিশ্চিত তথ্য নেই। কুকি-জো সংগঠনগুলো সন্দেহভাজন নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। দ্য কুইন্টের প্রতিবেদনে স্থানীয় সূত্রের বরাতে ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অব নাগাল্যান্ড-ইসাক-মুইভাহ (এনএসসিএন-আইএম), জেলিয়াংরং ইউনাইটেড ফ্রন্টের কামসন গোষ্ঠীসহ কয়েকটি সংগঠনের নাম এসেছে। তবে কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেনি।
মরদেহ গ্রহণ না করার ঘোষণা
দুই নারী হত্যার পর কুকি-জো সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কুকি ইনপি মণিপুরসহ বিভিন্ন সংগঠন হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মরদেহ গ্রহণ বা দাফন না করার অবস্থান জানিয়েছে।
দ্য কুইন্টের প্রতিবেদনে কুকি-জো কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে নিহতদের মরদেহ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হবে। সংগঠনটি নিরাপত্তা, তদন্ত, বিচার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
তামেনগ্লংয়ের এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন মণিপুরের উপমুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপগেনও। তিনি দুই নারীকে হত্যার ঘটনাকে মর্মান্তিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন।
কয়েক ঘণ্টা পর নাগা গ্রামে হামলা
দুই নারী হত্যার কয়েক ঘণ্টা পরই কাংপোকপি জেলার চাওয়াংকিনিং গ্রামে হামলা হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে গুলিবর্ষণ শুরু হয় এবং তা বুধবার ভোর পর্যন্ত চলে।
চাওয়াংকিনিং একটি লিয়াংমেই নাগা অধ্যুষিত গ্রাম। গ্রামটির আশপাশে কুকি অধ্যুষিত এলাকাও রয়েছে। হামলাকারীরা গ্রামে ঢোকার চেষ্টা করলে স্থানীয় নিরাপত্তা সদস্য ও সিআরপিএফের সঙ্গে তাদের গোলাগুলি হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে গুলিবিনিময়ের পর হামলাকারীরা সরে যায়। যাওয়ার আগে দুটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। কিছু প্রতিবেদনে পাঁচটি বাড়িতে আগুন দেওয়ার কথা বলা হলেও স্থানীয় ও অন্যান্য প্রতিবেদনে দুটি বাড়ি পুড়ে যাওয়ার তথ্য এসেছে। ঘটনায় কোনো বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
এই হামলার জন্য কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে স্থানীয় নাগা সংগঠনগুলো। তবে এখানেও কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী প্রকাশ্যে হামলার দায় স্বীকার করেনি। পুলিশ এ ঘটনায় মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে বলে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বরও চার কুকি নিহত
নতুন করে সহিংসতা শুরুর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর মণিপুরের তামেনগ্লং ও নোনে জেলায় দুটি পৃথক হামলায় চার কুকি-জো বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তামেনগ্লংয়ের টোলেন গ্রামে হামলায় লিংজাংগাই ও সেইনেহ সিংসিত নিহত হন। তাঁদের শিশুসন্তান গুরুতর আহত হয়। অন্যদিকে নোনে জেলার লংপি গ্রামে জুলি সিংসন ও থাংভেল গ্যাংটে নিহত হন। জুলি সিংসন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে স্থানীয় সংগঠনগুলো জানিয়েছে।
এসব হামলার ক্ষেত্রেও কুকি সংগঠনগুলো সন্দেহভাজন নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে। একই সঙ্গে স্থানীয় কিছু নাগা সংগঠনও বেসামরিক মানুষ হত্যার নিন্দা জানিয়েছে এবং প্রতিশোধমূলক সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
ফলে ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র তিন দিনের মধ্যে ছয় কুকি-জো বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এর পরপরই নাগা গ্রামে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
নাগা-কুকি সংঘাতের পুরোনো ক্ষত
মণিপুরে নাগা ও কুকিদের মধ্যে সংঘাত নতুন নয়। ১৯৯০-এর দশকেও দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়াবহ সহিংসতা হয়েছিল। সেই সময়ের হত্যাকাণ্ড, বাস্তুচ্যুতি ও গ্রাম উচ্ছেদের স্মৃতি এখনো দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর প্রভাব রেখে গেছে।
বর্তমান উত্তেজনার পেছনে ভূমি, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, স্বায়ত্তশাসন এবং পৃথক রাজনৈতিক দাবির মতো বিষয়ও রয়েছে। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক থংখোলাল হাওকিপ দ্য কুইন্টকে বলেছেন, কুকি-জো জনগোষ্ঠীর পৃথক প্রশাসনের দাবি এবং নাগাদের বৃহত্তর ‘নাগা এলাকার’ একীভূতকরণের দীর্ঘদিনের দাবির মধ্যে আঞ্চলিক বিরোধ রয়েছে।
তবে বর্তমান সহিংসতাকে শুধু পুরোনো বিরোধের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখলে পুরো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা কঠিন। মণিপুরের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী, স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ২০২৩ সালের পর থেকে তৈরি হওয়া নতুন জাতিগত বিভাজন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
২০২৩ সালের মেইতেই-কুকি সংঘাতের পর নতুন সংকট
মণিপুরে ২০২৩ সালের মে মাসে মেইতেই ও কুকি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বড় ধরনের জাতিগত সংঘাত শুরু হয়। ওই সহিংসতায় ৩০০-এর বেশি মানুষ নিহত হন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। এরপর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও হামলা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই অস্থিরতার নতুন মাত্রা তৈরি করেছে।
এবারের ঘটনাগুলোর বিশেষ দিক হলো, সহিংসতার কেন্দ্র ক্রমশ মেইতেই-কুকি বিভাজন থেকে নাগা-কুকি অধ্যুষিত পাহাড়ি এলাকাগুলোর দিকে সরে যাচ্ছে। তামেনগ্লং, নোনে ও কাংপোকপির মতো জেলাগুলোতে বেসামরিক বসতিতে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে।
দ্য কুইন্টের প্রতিবেদনে কুকি পক্ষের দাবি, চলতি বছরের মার্চ থেকে বিভিন্ন হামলায় ২৬ জন কুকি-জো নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে নাগা সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও চলতি বছরের বিভিন্ন হামলায় নাগা নিহত হওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। উভয় পক্ষের দেওয়া এসব সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
প্রবীণ নাগা নেতার নিন্দা
সাম্প্রতিক সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন নাগা পিপলস ফ্রন্টের প্রবীণ নেতা ও মণিপুরের বিধায়ক আওয়াংবো নিউমাই। এক বিবৃতিতে তিনি এ ধরনের সহিংসতাকে বর্বরোচিত ও কাণ্ডজ্ঞানহীন বলে উল্লেখ করেছেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো সম্প্রদায়ের জন্যই এমন সহিংসতা কল্যাণকর ফল বয়ে আনতে পারে না। বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বিভিন্ন নাগা সংগঠন ও নেতার বক্তব্যে উঠে এসেছে।
ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিলের নেতা লোরহো এনজি-ও সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধমূলক ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, একের পর এক পাল্টা হামলা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।
নিরাপত্তা জোরদার, তদন্ত চলছে
তামেনগ্লংয়ের পুলিশ সুপার লুইখাম লানমিও দ্য কুইন্টকে জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পর ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জেলা পুলিশ, আসাম রাইফেলস ও সিআরপিএফের যৌথ বাহিনী নিয়মিত টহল দিচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছে।
তবে পাহাড়ি ও বনাঞ্চলঘেরা দুর্গম ভূপ্রকৃতি নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। অনেক গ্রাম একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন এবং প্রত্যন্ত এলাকায় দ্রুত নিরাপত্তা বাহিনী পৌঁছানো কঠিন।
পুলিশের কর্মকর্তারা দ্য কুইন্টকে বলেছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো শুধু স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এর সঙ্গে বৃহত্তর জাতিগত সংঘাত ও একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা জড়িয়ে আছে। কোন নির্দিষ্ট গোষ্ঠী কোন হামলার জন্য দায়ী, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
প্রতিশোধের চক্র নিয়ে উদ্বেগ
মণিপুরের বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো—একটি হামলার পরপরই অন্য সম্প্রদায়ের ওপর পাল্টা হামলা হচ্ছে। এতে বেসামরিক মানুষই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন।
১৫ সেপ্টেম্বর দুই কুকি নারী হত্যার পর ১৬ সেপ্টেম্বর নাগা গ্রামে হামলার ঘটনা সেই আশঙ্কাকেই আরও স্পষ্ট করেছে। কোনো হামলার পর যদি দ্রুত তদন্ত, অপরাধীদের শনাক্তকরণ ও বিচার নিশ্চিত না হয়, তাহলে প্রতিশোধমূলক সহিংসতার নতুন পর্ব তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
বর্তমানে মণিপুরের পাহাড়ি এলাকায় তাই শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোই নয়, বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ ও আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রশ্নও সামনে এসেছে।
দুই সম্প্রদায়ের বেসামরিক মানুষের ওপর ধারাবাহিক হামলা অব্যাহত থাকলে ২০২৩ সালের পর তৈরি হওয়া জাতিগত বিভাজন আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে মণিপুরের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখা হচ্ছে।