
২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী বছরের মার্চে তিন ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ায় নতুন আরও তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো শিক্ষা কার্যক্রমের প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় তাদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নির্ভর করছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতির ওপর।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছের বি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ১৯ মার্চ, সি ও ডি ইউনিটের পরীক্ষা ২০ মার্চ এবং এ ইউনিটের পরীক্ষা ২৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি আবেদন, আবেদন ফি, যোগ্যতা, কেন্দ্র ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
গতকাল শুক্রবার গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার মূল কমিটির আহ্বায়ক এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক এস এম হেমায়েত জাহান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের নিয়ে ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত সভায় পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
২০ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েই সূচি ঘোষণা
সভায় গত বছর গুচ্ছভুক্ত থাকা ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা অংশ নেন। তাঁদের আলোচনার ভিত্তিতেই আগামী শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার আহ্বায়ক অধ্যাপক এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, ভার্চ্যুয়াল সভায় ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের উপস্থিতিতে পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত গুচ্ছ থেকে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়নি। সব প্রক্রিয়া ঠিকঠাক থাকলে নির্ধারিত তারিখেই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
গত শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মোট আসন ছিল প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার। এবার নতুন বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হলে মোট আসনসংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তবে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আসন ও বিভাগভিত্তিক ভর্তি কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
যুক্ত হতে চায় নতুন তিন বিশ্ববিদ্যালয়
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় নতুন করে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ জানিয়েছে তিনটি নবীন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। এগুলো হলো বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় ও মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়।
তবে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণের সময় এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে গুচ্ছের অংশ ছিলেন না। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো তাদের শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কাঠামো পুরোপুরি গড়ে তোলার পর্যায়ে রয়েছে।
এ বিষয়ে অধ্যাপক এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন না, কারণ তাঁরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে গুচ্ছের অন্তর্ভুক্ত হননি। তবে ব্যক্তিগতভাবে তাঁরা গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। আগামী সপ্তাহে ইউজিসি থেকে ভর্তির অনুমোদন বা ছাড়পত্র পাওয়া গেলে দ্রুত তাদের যুক্ত করার বিষয়ে অগ্রসর হওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতিই বড় চ্যালেঞ্জ
নতুন তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতিকে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর জন্য শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হলে ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহা. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, নবীন তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছে যুক্ত হওয়ার আগ্রহের বিষয়টি আগেই জানানো হয়েছে। কিছু প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম এখনো সম্পন্ন করা প্রয়োজন। সেগুলো দ্রুত শেষ করে ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে গুচ্ছের আওতায় থাকা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ইউজিসিকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক নিয়োগ ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।
গুচ্ছে থাকা ২০ বিশ্ববিদ্যালয়
গত শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ায় থাকা ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো—
১. ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
২. মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
৩. পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
৪. নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
৫. জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
৬. যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
৭. পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
৮. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
৯. গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
১০. বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
১১. রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
১২. রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়
১৩. ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি
১৪. নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়
১৫. জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
১৬. চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
১৭. কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়
১৮. সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
১৯. পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
২০. নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়।
ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত
এখন পর্যন্ত গুচ্ছভুক্ত ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনোটি গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়নি। ফলে ঘোষিত সূচি অনুযায়ী ২০ বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়েই প্রাথমিকভাবে ভর্তি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে বগুড়া, ঠাকুরগাঁও ও মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হলে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ২৩-এ উন্নীত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য ইউজিসির অনুমোদন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়া জরুরি।
ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ইতিমধ্যে নির্ধারিত হওয়ায় নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যুক্ত হলে আসনসংখ্যা, বিভাগ, আবেদনযোগ্যতা, কেন্দ্র এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়েও প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে হবে।
বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯ মার্চ বি ইউনিট, ২০ মার্চ সি ও ডি ইউনিট এবং ২৭ মার্চ এ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে ভর্তি আবেদন ও অন্যান্য বিস্তারিত নির্দেশনা পরবর্তী ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করা হবে।