
রাজধানীতে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভাটারা ও বনানী এলাকায় দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
মঙ্গলবার রাতে ভাটারার সাঈদনগর এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন দুই বন্ধু। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে মোটরসাইকেল চালক মো. সুমনকে (২০) মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। তাঁর সঙ্গে থাকা বন্ধু রবিউল (২২) আহত হয়েছেন।
রবিউলের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা সুমনের মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। সাঈদনগর এলাকায় একটি ট্রাক তাঁদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে দুজনই রাস্তায় পড়ে গুরুতর আহত হন। প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক মো. সেলিম হোসেন জানান, রাত ১০টার দিকে চিকিৎসক সুমনকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট থানাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আহত রবিউলের চিকিৎসা চলছে।
সুমন পেশায় গ্রিলের কাজ করতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী সদর উপজেলার আজিজুল্লাপুর গ্রামে। তিনি ভাটারার নতুন বাজার এলাকায় বসবাস করতেন।
অন্যদিকে মঙ্গলবার দুপুর সোয়া একটার দিকে বনানীতে বাসের ধাক্কায় হাসান ইমাম সোহেল (৪৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন। তিনি মোটরসাইকেলের পেছনের আসনে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে থাকা সহকর্মী, যিনি মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন, দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সোহেল ও তাঁর সহকর্মী মোহাম্মদপুর থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় যাচ্ছিলেন। বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ি ও সৈনিক ক্লাবের মাঝামাঝি এলাকায় তাঁদের মোটরসাইকেলকে লাবিব পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দেয়।
ধাক্কায় দুজনই রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এ সময় সোহেল বাসটির সামনে পড়ে গেলে চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
বনানী থানার উপপরিদর্শক জুয়েল বিশ্বাস জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সোহেলের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছে। আহত মোটরসাইকেল চালককে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর পুলিশ সংশ্লিষ্ট বাসটি জব্দ করেছে। তবে বাসের চালক ও সহকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন। তাঁদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
নিহত সোহেল রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে।