
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, নিয়োগপত্র দেওয়ার পাশাপাশি প্রার্থীদের ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়াও চলছে। এ কার্যক্রম আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এরপর কতজন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নিয়োগের বাইরে থাকছেন, তা জানা যাবে এবং তাঁদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন উপলক্ষে সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আ ন ম এহছানুল হক বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫৩০ জন পরবর্তী ধাপে আবেদন করেননি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় তাঁদের আবেদন চূড়ান্ত পর্যায়ে আসেনি। তাঁদের কেউ কেউ এরই মধ্যে অন্য চাকরিতে যোগ দিয়ে থাকতে পারেন বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ৫৩০ জন বাদ দেওয়ার পর এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ৮৫৪ জনের চূড়ান্ত আবেদন পাওয়া গেছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নিয়োগপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলে প্রার্থীদের তথ্য যাচাইয়ের সময় বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। বিশেষ করে অনেক প্রার্থী তাঁদের ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন। ফলে সবার ক্ষেত্রে একই সময়ে নিয়োগপত্র দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, প্রার্থীদের ঠিকানা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য পর্যায়ক্রমে যাচাই করা হচ্ছে। যাঁদের তথ্য ও ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হচ্ছে, তাঁদের নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য ওয়েবসাইটে পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হচ্ছে এবং প্রক্রিয়াটিও ধীরে ধীরে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে নিয়োগপত্র দেওয়া বাকি থাকা প্রার্থীদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সোমবার পর্যন্ত ৮১৭ জনের নিয়োগপত্র দেওয়া বাকি রয়েছে। তাঁদের তথ্যও পর্যায়ক্রমে যাচাই করা হচ্ছে। কারও ঠিকানাসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, আবার কারও ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, যেসব প্রার্থীর নিয়োগপত্র এখনো দেওয়া হয়নি, তাঁদের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এসব প্রার্থীর তথ্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ১ অক্টোবর পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলবে।
তিনি বলেন, এ সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থীর ঠিকানাসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যেতে পারে, আবার কারও ভেরিফিকেশন-সংক্রান্ত তথ্যও আসতে পারে। তাই ১ অক্টোবরের আগে নিয়োগের বাইরে থাকা প্রার্থীর চূড়ান্ত সংখ্যা বলা সম্ভব নয়।
আ ন ম এহছানুল হক বলেন, ‘আমরা আদৌ জানি না, ফাইনালি ২০ জন হবে, নাকি ৫০ জন হবে, নাকি ১০০ জন।’ ১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত কতজন প্রার্থী নিয়োগের জন্য বিবেচিত হবেন না, তা নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।
নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য বা অপপ্রচার হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মন্ত্রী। এ বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে ইতিমধ্যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাঁর অবস্থান জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যেসব প্রার্থীর তথ্য যাচাই শেষ হয়নি, তাঁদের সবাইকে বাদ দেওয়া হয়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয়। বরং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, ঠিকানা যাচাই ও ভেরিফিকেশন শেষ করার কাজ চলছে। এই যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত চিত্র পাওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, নিয়োগপত্র দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হচ্ছে। যাঁদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও যাচাই সম্পন্ন হচ্ছে, তাঁদের নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে। অন্যদের ক্ষেত্রেও যাচাই শেষ হওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সভায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন এবং শিক্ষকতা পেশার বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বক্তব্য দেন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের এই প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের একটি অংশ ইতিমধ্যে নিয়োগপত্র পেলেও এখনো ৮১৭ জনের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই শেষ হয়নি। ফলে ১ অক্টোবর পর্যন্ত ঠিকানা, ভেরিফিকেশন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের পরই নিয়োগপ্রক্রিয়ার চূড়ান্ত সংখ্যা স্পষ্ট হবে।