
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ২০২৬–২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন—দুই ধরনের প্রোগ্রামেই আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। এ দুই প্রোগ্রামে নির্দিষ্টসংখ্যক গবেষককে মেধার ভিত্তিতে ফেলোশিপ বা বৃত্তি দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামে আল-কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আদ-দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আরবি ভাষা ও সাহিত্য, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এবং আল-ফিকহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে গবেষণার সুযোগ রয়েছে।
আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। অসম্পূর্ণ আবেদনও বাতিল বলে গণ্য হবে।
এমফিলে ভর্তির যোগ্যতা
এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় অথবা স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাজিল (স্নাতক) অনার্স, ফাজিল (স্নাতক) পাস বা সমমান এবং কামিল (স্নাতকোত্তর) বা সমমান—উভয় পরীক্ষায় নির্ধারিত ফলাফল থাকতে হবে।
প্রার্থীর উভয় পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর, জিপিএ-৫ স্কেলে ৩ দশমিক ৫০ অথবা সিজিপিএ-৪ স্কেলে ৩ দশমিক ০০ থাকতে হবে। পাশাপাশি দাখিল বা সমমান এবং আলিম বা সমমান—উভয় পরীক্ষায় ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ অথবা জিপিএ-৫ স্কেলে ৩ দশমিক ৫০ থাকতে হবে।
বিদেশি শিক্ষার্থী অথবা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদধারী প্রার্থীদের আবেদন করার আগে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট সমতা বিধান কমিটি থেকে তাঁদের সনদের সমতা নির্ধারণ করে নিতে হবে।
এমফিল প্রোগ্রামের মেয়াদ রেজিস্ট্রেশনের তারিখ থেকে দুই বছর। প্রোগ্রামের প্রথম পর্বে কোর্সওয়ার্ক এবং দ্বিতীয় পর্বে থিসিস সম্পন্ন করতে হবে। প্রাথমিক বাছাইয়ের পর যোগ্য প্রার্থীদের লিখিত ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। ভর্তি পরীক্ষার বিষয়, সময় ও স্থান পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
এমফিলে ফেলোশিপের সুযোগ
এমফিল প্রোগ্রামে ফেলোশিপ বা বৃত্তির জন্য আবেদনকারী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতি শিক্ষাবর্ষে প্রথম পর্বের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মেধাতালিকা তৈরি করে সর্বোচ্চ ১৫ জনকে ফেলোশিপ দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে গবেষকের সংখ্যা বিবেচনায় ফেলোশিপের সংখ্যা কম বা বেশি হতে পারে।
ফেলোশিপ পাওয়া গবেষকদের কোর্স চলাকালে পূর্ণকালীন ছুটিতে থাকতে হবে। চাকরিজীবীদের পূর্ণকালীন এমফিলে ভর্তি হলে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের অনাপত্তিপত্র বা এনওসি জমা দিতে হবে।
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রার্থীদের কমপক্ষে এক বছরের ছুটি নিয়ে প্রোগ্রামে যোগ দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি গ্রহণ করতে হবে।
এমফিলের গবেষণা ও সুপারভাইজার
এমফিল প্রোগ্রামের গবেষকদের জন্য ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় অথবা অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ডিগ্রিধারী অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকদের মধ্য থেকে সুপারভাইজার বা কো-সুপারভাইজার মনোনীত করা হবে। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ডিগ্রিধারী সহকারী অধ্যাপকেরাও সুপারভাইজার বা কো-সুপারভাইজারের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলে ভাইস চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও ট্রেজারারও সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
তবে গবেষকের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক, বৈবাহিক সম্পর্ক বা নিকটাত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনো ব্যক্তি সুপারভাইজার বা কো-সুপারভাইজার হতে পারবেন না। একইভাবে তাঁকে গবেষণার পরীক্ষক হিসেবেও নিয়োগ দেওয়া যাবে না।
এমফিলের কোর্সওয়ার্ক ও গবেষণা
বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত সিলেবাস অনুযায়ী এমফিলে ৩০০ নম্বরের তিনটি তাত্ত্বিক কোর্স এবং ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা দিতে হবে। কোর্সওয়ার্কের ফল প্রকাশের পর গবেষককে প্রতি ছয় মাস অন্তর সুপারভাইজারের সুপারিশসহ গবেষণার অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
থিসিস জমা দেওয়ার অন্তত তিন মাস আগে গবেষককে গবেষণামূলক একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে হবে। এ উপস্থাপনায় সুপারভাইজার বা কো-সুপারভাইজার, উচ্চতর ডিগ্রি ও গবেষণা পরিচালনা কমিটি, কমিটি মনোনীত বিষয় বিশেষজ্ঞ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত থাকবেন।
পিএইচডিতে ভর্তির যোগ্যতা
পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। তবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এমফিল ডিগ্রি ছাড়াও সরাসরি পিএইচডিতে আবেদনের সুযোগ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মাদ্রাসা বা সমমান প্রতিষ্ঠানে ফাজিল বা কামিল পর্যায়ে কমপক্ষে তিন বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকলে প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাজীবনে ন্যূনতম দুটি প্রথম বিভাগ বা শ্রেণি থাকতে হবে। পাশাপাশি সিজিপিএ-৪ স্কেলে কমপক্ষে ৩ দশমিক ০০ অথবা সিজিপিএ-৫ স্কেলে ৩ দশমিক ৫০ থাকতে হবে এবং স্বীকৃত মানের জার্নালে অন্তত দুটি প্রকাশনা থাকতে হবে।
এ ছাড়া স্বীকৃত গবেষণাপ্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে তিন বছরের গবেষণাসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা অথবা সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত কিংবা আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে তিন বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকলেও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সরাসরি পিএইচডিতে আবেদন করা যাবে। এ ক্ষেত্রেও শিক্ষাজীবনের নির্ধারিত ফলাফল এবং কমপক্ষে দুটি স্বীকৃত প্রকাশনার শর্ত প্রযোজ্য।
পিএইচডি প্রার্থীদের ফাজিল বা সমমান এবং কামিল বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। সব পরীক্ষায় ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ বা শ্রেণি থাকতে হবে। ফাজিল ও কামিল—উভয় পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর, জিপিএ-৫ স্কেলে ৩ দশমিক ৫০ অথবা সিজিপিএ-৪ স্কেলে ৩ দশমিক ০০ থাকতে হবে।
কোনো পরীক্ষায় তৃতীয় শ্রেণি বা বিভাগ থাকলে প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন না।
এমফিল বা সমমানের ডিগ্রিধারী নন—এমন পিএইচডি প্রার্থীদের গবেষণাপদ্ধতি বা রিসার্চ মেথডোলজি বিষয়ে ১০০ নম্বরের একটি কোর্স পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। ওই পরীক্ষায় ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।
পিএইচডির মেয়াদ ও ফেলোশিপ
পিএইচডি প্রোগ্রামেও প্রাথমিক বাছাইয়ের পর লিখিত ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে। পরীক্ষার বিষয়, সময় ও স্থান পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
পূর্ণকালীন পিএইচডি প্রোগ্রামের রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ চার বছর এবং খণ্ডকালীন প্রোগ্রামের মেয়াদ পাঁচ বছর। তবে চার বছর পূর্ণ হওয়ার পরও থিসিস জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
পিএইচডি প্রোগ্রামে প্রতি শিক্ষাবর্ষে মেধার ভিত্তিতে ১০ জন গবেষককে ফেলোশিপ বা বৃত্তি দেওয়ার বিধান রয়েছে। গবেষকের সংখ্যা বিবেচনায় এ সংখ্যা পরিবর্তন হতে পারে। ফেলোশিপের জন্য আবেদনকারী প্রার্থীর বয়স অনধিক ৪৮ বছর হতে হবে।
ফেলোশিপ পাওয়া পিএইচডি গবেষকদের কোর্স চলাকালে পূর্ণকালীন ছুটিতে থাকতে হবে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রার্থীদের কমপক্ষে এক বছরের ছুটি নিয়ে পূর্ণকালীন পিএইচডি প্রোগ্রামে যোগ দিতে হবে।
তবে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমফিলধারী শিক্ষক-কর্মকর্তা অথবা এমফিল থেকে পিএইচডিতে রূপান্তরিত গবেষকদের ক্ষেত্রে ছুটি নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তাঁদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।
খণ্ডকালীন পিএইচডি প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে ছুটি নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনাপত্তিপত্র বা এনওসি জমা দিতে হবে।
পিএইচডির গবেষণা কার্যক্রম
পিএইচডিতে রেজিস্ট্রেশনের পর প্রতি ছয় মাস অন্তর সুপারভাইজারের সুপারিশসহ গবেষণার অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
ভর্তির ছয় মাসের মধ্যে গবেষককে তাঁর গবেষণার শিরোনাম, উদ্দেশ্য, গবেষণাপদ্ধতি এবং তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ বিষয়ে একটি গবেষণা প্রস্তাবনা সেমিনার বা প্রেজেন্টেশনে উপস্থাপন করতে হবে।
গবেষণা চলাকালে আরও একটি গবেষণামূলক সেমিনার করতে হবে। এ ছাড়া থিসিস জমা দেওয়ার চার মাস আগে গবেষণার ফলাফল নিয়ে আরেকটি গবেষণামূলক সেমিনার আয়োজন করতে হবে।
এভাবে পিএইচডি গবেষণায় শুধু থিসিস প্রস্তুত নয়, গবেষণার বিভিন্ন ধাপে অগ্রগতি মূল্যায়ন ও গবেষণার ফলাফল উপস্থাপনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
আবেদন ফি ৩ হাজার টাকা
এমফিল ও পিএইচডি—উভয় প্রোগ্রামের প্রাথমিক আবেদন ফি ৩ হাজার টাকা। আবেদনকারীকে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে পে-স্লিপ ডাউনলোড করে অগ্রণী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় নির্ধারিত ফি জমা দিতে হবে।
পে-স্লিপ তৈরির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের Payment-এর ছাত্রসেবা অপশনে যেতে হবে। সেখানে Service Type হিসেবে MPhil/PhD Application Fee নির্বাচন করতে হবে। এরপর EIIN No ঘরে 138247, Student Name ঘরে নিজের পূর্ণ নাম, Roll/Reg. No ঘরে মোবাইল নম্বর এবং Session ঘরে 2026–27 লিখে তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।
তথ্য সফলভাবে সংরক্ষণ হলে লাল রঙে একটি Transaction ID প্রদর্শিত হবে। এরপর Download Payslip অপশনে ক্লিক করে পে-স্লিপ ডাউনলোড ও প্রিন্ট করতে হবে। ওই পে-স্লিপে উল্লিখিত নির্ধারিত ফি অগ্রণী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় জমা দিতে হবে।
আবেদন জমা দেওয়ার পদ্ধতি
নির্ধারিত ফরমে আবেদন সম্পন্ন করার পর পে-স্লিপের মূল রসিদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ঠিকানায় জমা দিতে হবে।
আবেদনপত্র সরাসরি জমা দেওয়ার পাশাপাশি ডাকযোগে অথবা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমেও পাঠানো যাবে। আবেদনপত্র জমা দিতে হবে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের বছিলা, মোহাম্মদপুরের অস্থায়ী কার্যালয়ের কামিল (স্নাতকোত্তর) শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রে।
আবেদনের শেষ সময়
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬–২০২৭ শিক্ষাবর্ষের এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদনের শেষ সময় ১৫ অক্টোবর ২০২৬। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। অসম্পূর্ণ আবেদনও বাতিল বলে গণ্য হবে।
আবেদন করার আগে প্রার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা, ছুটি বা অনাপত্তিপত্রের প্রয়োজনীয়তা এবং অন্যান্য শর্ত ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত। ভর্তি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ, বিশেষ করে লিখিত পরীক্ষার বিষয়, সময় ও স্থান বিশ্ববিদ্যালয় পরবর্তী সময়ে জানাবে।
ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত সব শর্ত ও বিস্তারিত তথ্য ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে পাওয়া যাবে।