
ফিফার সদস্য দেশগুলোর জন্য উন্নয়ন তহবিল থেকে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। উয়েফা ও কনক্যাকাফের পক্ষ থেকে তোলা প্রস্তাবে ২০২৭-৩০ চক্রে প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে বিদ্যমান বরাদ্দের বাইরে অন্তত ১ কোটি ডলার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে এখনই অতিরিক্ত অর্থের নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘোষণা করতে রাজি নন ইনফান্তিনো। ছয় মহাদেশীয় কনফেডারেশনের সভাপতিদের পাঠানো চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি আগামী ১৫ অক্টোবর ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের আগে আর্থিক যাচাই এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে।
চলতি মাসে উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন এবং কনক্যাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তালিয়ানির পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি দেওয়া হয়। তাঁদের দাবি, ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের চক্রে ফিফার প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে বর্তমান উন্নয়ন তহবিলের পাশাপাশি অন্তত ১০ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত দেওয়া হোক।
একই সঙ্গে তাঁরা ফিফার রিজার্ভ তহবিলের স্বাধীন পর্যালোচনার কথাও বলেছেন।
১৮ সেপ্টেম্বর পাঠানো চিঠিতে দুই কনফেডারেশন সভাপতি ফিফার বাতিল হয়ে যাওয়া একটি বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ফিফার রিজার্ভ প্রায় ৬০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। প্রস্তাবিত অতিরিক্ত অর্থ সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হলেও পরবর্তী চক্রে রিজার্ভ ১৫০ কোটি ডলারের বেশি থাকবে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
ইনফান্তিনো অবশ্য বলেছেন, বাতিল হওয়া বাণিজ্যিক প্রকল্পটি ছিল ফিফার জন্য নতুন অর্থের উৎস তৈরির একটি উদ্যোগ। বিদ্যমান উন্নয়ন তহবিলের বিকল্প হিসেবে সেটি বিবেচনা করা হয়নি।
ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ প্রকল্পটি গত জুলাইয়ে বাতিল করা হয়। উয়েফা, কনক্যাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনসহ কয়েকটি সংগঠন প্রকল্পটি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। পর্যাপ্ত পরামর্শ না করার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পরিচালন কাঠামো নিয়ে পরিবর্তনের দাবিও জোরালো হয়েছে।
ইনফান্তিনোর ভাষ্য অনুযায়ী, কনফেডারেশনগুলোর প্রস্তাব আসার আগেই ফিফা প্রশাসন উন্নয়ন ও সংহতি তহবিল আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছিল।
তিনি কনফেডারেশনগুলোর কাছে তাদের আর্থিক মডেল, হিসাব-নিকাশ এবং প্রস্তাবের পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়েছেন। ফিফার সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো এসব তথ্য যাচাই করবে।
অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ, কখন থেকে তা দেওয়া হবে এবং কোন শর্তে সদস্যরা এই অর্থ পাবেন—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ফিফা কাউন্সিল। একই সঙ্গে ফিফার আর্থিক স্বাধীনতা বজায় রাখতে রিজার্ভের ন্যূনতম প্রয়োজনীয় মাত্রাও নির্ধারণ করতে হবে।
অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে যোগ্যতার শর্ত, প্রতিবেদন এবং নিরীক্ষার ব্যবস্থাও নির্ধারণ করা হবে। যেসব কনফেডারেশনের কাঠামোগত ব্যয় তুলনামূলক বেশি, তাদের জন্য আলাদা সহায়তার বিষয়টিও মূল্যায়নের আওতায় আসতে পারে।
প্রয়োজনীয় তথ্য হাতে এলে ১৫ অক্টোবরের বৈঠকেই সুপারিশ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তা সম্ভব না হলে পরবর্তী সময়সীমা নির্ধারণ করে কাজটি এগিয়ে নেওয়া হবে।
ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, তিনি আগে থেকেই কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক ঘোষণা করতে চান না। তবে ফিফার নিয়ম ও শাসনপ্রক্রিয়া মেনে স্বচ্ছ এবং ন্যায্য উপায়ে সদস্য দেশগুলোর জন্য যতটা সম্ভব বেশি অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি তিনি আলোচনায় রাখতে চান।
একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে কনফেডারেশনগুলোর মতামতও চেয়েছেন ফিফা সভাপতি। তবে তাঁর বক্তব্য, মতপার্থক্য থাকলেও ফিফার প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও নির্ধারিত প্রক্রিয়াকে সম্মান করা প্রয়োজন।