
জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় দিনে ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি পেয়েছেন মাহমুদুল হাসান জয়। অন্যদিকে বল হাতে পাঁচ উইকেট নিয়ে আলো ছড়িয়েছেন খুলনার বাঁহাতি পেসার রুয়েল মিয়া। দিন শেষে ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কায় পড়েছে বরিশাল বিভাগ।
চট্টগ্রামে রাজশাহীর বিপক্ষে দ্বিতীয় দিন শেষে ১০২ রানে অপরাজিত আছেন চট্টগ্রামের ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। তাঁর সঙ্গে অপরাজিত সাদিকুর রহমানের ব্যাটে ভর করে চট্টগ্রাম বেশ ভালো অবস্থানে আছে। দুজন মিলে গড়েছেন ১৯০ রানের অবিচ্ছিন্ন উদ্বোধনী জুটি। সাদিকুর দিন শেষ করেছেন ৮৬ রানে।
এর আগে ৬ উইকেটে ২৯০ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করা রাজশাহী প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় ৩৬৪ রানে। চট্টগ্রামের বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ ৯৬ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গত জুনে সর্বশেষ টেস্ট খেলা মাহমুদুলের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি সপ্তম শতক। ৮৭ রানে পৌঁছানোর সময় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩ হাজার রানও পূর্ণ করেন ২৩ টেস্ট খেলা এই ওপেনার।
শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে রংপুর ৬ উইকেটে ২২৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে। শেষ পর্যন্ত তাদের প্রথম ইনিংস থামে ৩৪০ রানে।
জবাবে দ্বিতীয় সেশনে ব্যাটিংয়ে নামা ঢাকা দিন শেষ করেছে ৬ উইকেটে ১২০ রান নিয়ে। মাত্র ৭৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়েছিল দলটি। এরপর তাইবুর রহমান ও সুমন খান জুটি গড়ে আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি। তাইবুর ৩২ এবং সুমন ১৯ রানে অপরাজিত আছেন।
রংপুরের মিডিয়াম পেসার চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান পেয়েছেন ২ উইকেট। এর আগে ব্যাট হাতে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে দলের সর্বোচ্চ ৭৫ রান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আট ম্যাচ খেলা এই সাবেক বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটারের এটি প্রথম অর্ধশতক। ঢাকার বাঁহাতি স্পিনার আরিফ আহমেদ ৯২ রান খরচায় নিয়েছেন ৪ উইকেট।
সিলেটে ৭ উইকেটে ২৭৩ রান নিয়ে দিন শুরু করা ময়মনসিংহ আর বেশি দূর এগোতে পারেনি। ৩১১ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা।
সিলেটের হয়ে পেসার তোফায়েল আহমেদ এবং স্পিনার নাঈম আহমেদ ও নাবিল সামাদ ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন।
দিন শেষে সিলেটের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২৩৬ রান। অধিনায়ক ও ওপেনার জাকির হাসান ৬০ রান করে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেছেন। পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নামা আসাদউল্লাহ আল গালিব ৫৫ রানে অপরাজিত আছেন।
খুলনায় স্বাগতিকদের বিপক্ষে বড় বিপদে পড়েছে বরিশাল। ৫ উইকেটে ৩২৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করা খুলনা প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রানে অলআউট হয়।
এরপর ব্যাট করতে নেমে বরিশালের ব্যাটিং ধসে পড়ে। মাত্র ২৮.৪ ওভারে ৯৪ রানে শেষ হয়ে যায় তাদের প্রথম ইনিংস। ফলে ফলোঅনে পড়ে দলটি। দ্বিতীয় ইনিংসে দিন শেষে বরিশালের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৪৩ রান। খুলনার প্রথম ইনিংসের চেয়ে এখনো ২৮৯ রানে পিছিয়ে তারা।
খুলনার ইনিংসে আগের দিন ৪৪ রানে অপরাজিত থাকা আফিফ হোসেন আজ অর্ধশতক পূর্ণ করে আউট হন। তাঁর উইকেটটি নেন রুয়েল মিয়া। এরপর খুলনার শেষ ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে ইনিংসে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি পেসার।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এ নিয়ে অষ্টমবার এক ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট পেলেন রুয়েল।
বরিশালের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন অধিনায়ক ও ওপেনার ইফতেখার হোসেন। খুলনার বোলারদের মধ্যে সফর আলী ২টি, আবদুল হালিম ২টি, মেহেদী হাসান রানা ৩টি এবং অফ স্পিনার শেখ পারভেজ ৩টি উইকেট নিয়েছেন।