
সৌদি-হুতি সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা, বাংলাদেশিসহ নিহতদের ঘটনায় উদ্বেগ; পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি রিয়াদের
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাঁচ দিনের ব্যবধানে চতুর্থ দফা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত শনিবারের হামলাটি ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী। ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংলাদেশিসহ একাধিক দেশের নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে হামলাগুলোতে নিহতের সংখ্যা ১৭ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী।
গত ৫ অক্টোবর সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইয়েমেনে ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযান শুরু করার পর রিয়াদের বিমানবন্দরটিতে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটে। প্রথম হামলা হয় গত বুধবার। এতে সুদানের একজন নাগরিক নিহত হন। এরপর শুক্রবারের হামলায় এক পাইলটসহ তিন সৌদি নাগরিক নিহত হন। সর্বশেষ রোববারের হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার পেছনে ইয়েমেনের কৌশলগত অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ এবং আঞ্চলিক জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাজ করছে। হুতিদের হামলা ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর পাল্টা অভিযানে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক নৌপথ এবং জ্বালানি সরবরাহের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয় গত জুলাইয়ে। এর পর থেকে লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাত আরও জটিল হয়ে ওঠে। হুতিরা সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনের নতুন নতুন অঞ্চল দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী কয়েকটি এলাকা পুনর্দখল করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত রোববারও দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই হয়েছে। ইয়েমেনি বাহিনীর দাবি, আগের ২৪ ঘণ্টায় হুতিদের লক্ষ্য করে প্রায় দুই হাজার হামলা চালানো হয়েছে। বাহিনীটি হুতিদের কাছ থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ধুবাব শহর পুনর্দখল করে বাব আল-মানদেব প্রণালির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাইজ শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই চলছে।
তবে ইয়েমেনি বাহিনীর এসব দাবি নিয়ে হুতিদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে অভিযানের মাত্রা ও বিভিন্ন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতি সম্পর্কে দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
ইয়েমেনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সানা সেন্টারের গবেষক ইয়াসমিন আল এরিয়ানি আল-জাজিরাকে বলেন, সৌদি আরবের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে হুতিরা। এ কারণেই ইয়েমেনের বাইরে সৌদি ভূখণ্ডে হামলা বাড়ানো হয়েছে বলে তাঁর ধারণা। তাঁর মতে, হুতিদের এই তৎপরতা আরও বাড়তে পারে। সৌদি আরবের পাশাপাশি আঞ্চলিক দেশগুলোকে উসকানি দেওয়ার ফলে সংঘাতের পরিধি বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের বিরোধ দীর্ঘদিনের। ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নেয় হুতিরা। এর পরের বছর হুতিবিরোধী সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে সংঘাতের তীব্রতা কমে এলেও ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ পুরোপুরি মেটেনি। বর্তমানে হুতি ও সৌদি-সমর্থিত সরকারপক্ষ নিজ নিজ নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল ধরে রেখেছে।
এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের লড়াইয়ে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এর মধ্যে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বিমানবন্দরে হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
শনিবারের হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে উল্লেখ করেছেন সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি। রোববার তিনি বলেন, এ হামলার কড়া জবাব দেওয়া হবে। এ ছাড়া রিয়াদে হামলার পর দাম্মামে কিং ফাহাদ বিমানবন্দরের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলেও তিনি জানান। সৌদি সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির পূর্বাঞ্চলে একটি ড্রোনও প্রতিহত করা হয়েছে।
হুতিদের পক্ষ থেকেও সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। শনিবারের হামলার পর গোষ্ঠীটি বিমান সংস্থা, উড়োজাহাজের কর্মী, বিমানবন্দরের শ্রমিক ও যাত্রীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানায়। তাদের দাবি, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হামলার ঝুঁকি রয়েছে। মক্কা ও মদিনা ছাড়া অন্য বিমানবন্দরগুলোকে নিজেদের সম্ভাব্য অভিযানের ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেছে গোষ্ঠীটি।
এ ধরনের হুমকি অব্যাহত থাকলে বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি যাত্রী ও বিমানবন্দরকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।
রিয়াদ বিমানবন্দরে শনিবারের হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিরা হলেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের মো. শাহেদ আহম্মেদ এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। হামলায় আহত চার বাংলাদেশি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর আগে সৌদি আরবে হুতিদের হামলায় একজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছিলেন। শনিবারের হামলায় আরও দুজন বাংলাদেশি নিহত হন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা আশা করব যে এই বিপর্যয় বন্ধ হবে, এই আক্রমণ বন্ধ হবে। এ ধরনের মৃত্যু আসলে মেনে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর।’
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রিয়াদের কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটি বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় আঘাত হানে। সে সময় সেখানে ইউএস-বাংলা, সৌদিয়া ও রিয়াদ এয়ারের বাংলাদেশি যাত্রীরা ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৭ জন ম্যারিয়ট হোটেলে, ২৫ জন র্যাডিসন হোটেলে এবং ৪০ জন প্রিন্সেস নুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে অবস্থান করছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে এ ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংঘাতের বিস্তার অব্যাহত থাকলে সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী শ্রমিক, যাত্রী ও অন্যান্য বাংলাদেশির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
গবেষকদের ধারণা, সৌদি আরবের ওপর চাপ বাড়ানো এবং দেশটির সামরিক পদক্ষেপের জবাব দেওয়ার কৌশল হিসেবে হুতিরা সৌদি ভূখণ্ডে হামলা জোরদার করতে পারে। এর ফলে সংঘাত শুধু ইয়েমেনের ভেতরে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করতে পারে।
ইয়েমেনের কৌশলগত অবস্থানের কারণে দেশটির সংঘাত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বাব আল-মানদেব প্রণালি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে। আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য এই জলপথ গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সেখানে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে জাহাজ চলাচল, পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহব্যবস্থায় চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকেন্দ্রিক উত্তেজনা যুক্ত হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম এবং পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার পেছনে ইরান যুদ্ধেরও প্রভাব রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ওই যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলতে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। এর মধ্যে বাব আল-মানদেব প্রণালিকেন্দ্রিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
হুতিদের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছিল। তবে হুতিরা মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে ওয়াশিংটনকে সরাসরি সামরিকভাবে সংঘাতে না জড়ানোর আহ্বান জানায় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিকভাবে জড়াবে না। তবে গোয়েন্দা তথ্য ও পরোক্ষ সহায়তার মাধ্যমে সৌদি আরবের পাশে থাকার সুযোগ খোলা রাখা হয়েছিল।
শনিবার রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর ট্রাম্পের বক্তব্যে অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। হামলাটিকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে তিনি হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার কথা বলেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও সৌদি আরবে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিকভাবে সংঘাতে জড়ালে ইয়েমেনের যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হতে পারে। একই সঙ্গে ইরান, সৌদি আরব ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হবে। ফলে ওয়াশিংটনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত সংঘাতের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ এর নিন্দা জানিয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।
প্রতিবেদনে হামলার নিন্দা জানানো অন্য দেশগুলোর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, মিসর, কাতার, জর্ডান, ওমান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, জাপান ও কানাডার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
পাকিস্তান সৌদি আরবের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় পাকিস্তান অঙ্গীকারবদ্ধ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আগস্টে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তান ও তুরস্কের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছিল। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তিন দেশের কোনো একটি আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলো তার প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসবে।
সৌদি আরবের প্রতি বিভিন্ন দেশের সমর্থন ও সংহতি প্রকাশের মধ্য দিয়ে হামলার ঘটনাটি আঞ্চলিক কূটনীতিতেও গুরুত্ব পেয়েছে। তবে নিন্দা ও সমর্থনের পাশাপাশি সংঘাত যাতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে আসছে।
গবেষণাপ্রতিষ্ঠান গালফ ইন্টারন্যাশনাল ফোরামের নির্বাহী পরিচালক ডানিয়া থাফের আল-জাজিরাকে বলেন, সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু হওয়া ঠেকাতে সতর্ক থাকতে হবে। তাঁর মতে, পরিস্থিতি আর কেবল পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
রিয়াদ বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলা, ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর অভিযান, কৌশলগত জলপথ ঘিরে উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোর নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ও জড়িয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি। রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক নিহত ও আহত হওয়ায় সংঘাতের মানবিক মূল্য আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিমানবন্দর ও অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল এবং প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সৌদি আরব পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্রও নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছে। এখন সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়বে, নাকি কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো সম্ভব হবে—তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
সম্পাদনা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নোট: প্রকাশের আগে হতাহতের সংখ্যা, হামলার তারিখ ও স্থান, ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানের নাম, হরমুজ প্রণালি বন্ধের দাবি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক সম্পৃক্ততা—এসব তথ্য নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ সূত্র দিয়ে যাচাই করা জরুরি। মূল লেখায় শনিবারের হামলায় নিহতের সংখ্যা ও বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের হিসাবেও অস্পষ্টতা রয়েছে; চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যের সঙ্গে তা মিলিয়ে নেওয়া উচিত।