
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রে হেনস্তা করার অভিযোগের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন হেনস্তার শিকার হওয়ার ঘটনায় যেভাবে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, এ ক্ষেত্রেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুইলচেয়ারে করে বের হওয়ার সময় অধ্যাপক ইউনূসকে ঘিরে বিক্ষোভের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর দিকে এগিয়ে গিয়ে উচ্চস্বরে স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় তাঁকে উদ্দেশ করে ‘হোয়াই ইউ কাম হেয়ার’সহ বিভিন্ন মন্তব্য করতে শোনা যায়। এ ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবাসী সমর্থকের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত আছেন। অধ্যাপক ইউনূসের ক্ষেত্রেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের সমর্থকদের উদ্দেশে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করা হলে তা বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, গত মাসে ইতালিতে হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।
অধ্যাপক ইউনূসের প্রাপ্য মর্যাদা ও প্রটোকল যথাযথভাবে বজায় রাখা হয়েছিল কি না, তা-ও সরকার পর্যালোচনা করবে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা।
এদিকে, রাজনৈতিক পুনর্মিলন বা রিকনসিলিয়েশন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আওয়ামী লীগের নেতাদের অনুতাপের অভাব এবং বিভিন্ন সময়ে দেওয়া হুমকির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যায়নে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলনের কোনো সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না।