
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু, বুধবার জোহরের পর জানাজা
বিএনপির নেতা ও ঢাকা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার রাত ৮টা ১০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবনে বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছেলে তানভীর আহমেদ। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বাবার মৃত্যুর খবর জানিয়ে তানভীর আহমেদ এক পোস্টে লেখেন, ‘আমার আব্বু আর নেই। সে তার রবের কাছে চলে গিয়েছেন। রাত ৮টা ১০ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।’
পোস্টে বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে তিনি আরও লেখেন, ‘মহান আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন আমার আব্বুকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন। আমিন।’
তানভীর আহমেদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার জোহরের নামাজের পর রাজধানীর শ্যামপুর-কদমতলীর লাল মসজিদে সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সালাহউদ্দিন আহমেদ বিশেষ করে রাজধানীর শ্যামপুর-কদমলী এলাকায় পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন। তিনি ঢাকা-৪ আসন থেকে দলটির প্রার্থী হিসেবে একাধিকবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জয়ী হন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ঢাকা-৪ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি।
তাঁর নির্বাচনী ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রধান কেন্দ্র ছিল রাজধানীর শ্যামপুর-কদমলী এলাকা। এ এলাকায় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিতি ছিল তাঁর।
২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সালাহউদ্দিন আহমেদ ঢাকা-৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান মোল্লার কাছে পরাজিত হন তিনি।
পরে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি তাঁকে আবার ঢাকা-৪ আসনে মনোনয়ন দেয়। ওই নির্বাচনে প্রচারণার সময় তাঁর গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা এবং শ্যামপুর-কদমলী এলাকায় সাংগঠনিক অবস্থানের কারণে তিনি বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবনে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচন, দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। মৃত্যুর আগে কিছুদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন।
তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।