
কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলায় নিহত কলকাতার বাসিন্দা বিতান অধিকারীর মরদেহ বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতায় পৌঁছালে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। এ সময় শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে হাজির হন রাজ্যের বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
নিহত বিতানের স্ত্রী সোহিনী অধিকারী স্বামীর মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কোলে আড়াই বছরের শিশুপুত্রকে নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, “ছেলের চোখের সামনেই ওর বাবাকে মেরে ফেলেছে।” এই বেদনাদায়ক দৃশ্য দেখে অনেকেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।
জানা গেছে, কর্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বসবাস করতেন বিতান অধিকারী। ছুটিতে দেশে ফিরে স্ত্রী ও শিশুপুত্রকে নিয়ে কাশ্মীরে ঘুরতে গিয়েছিলেন। আগামী বৃহস্পতিবার তাদের কলকাতায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে আর ফেরা হলো না বিতানের।
পহেলগাঁওয়ে হামলার সময় পর্যটকদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। ওই হামলায় আরও অনেক পর্যটক আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা রাজ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজনীতিকরা এই হামলাকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার চরম ব্যর্থতা’ আখ্যা দিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবি করেছেন।