
মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরার ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনকে নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে তাঁর নিজ দল বিএনপি ও সরকারের ভেতরে। মাদকবিরোধী উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আপত্তি না থাকলেও অভিযানের ধরন, অস্ত্র প্রদর্শন এবং সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দল ও সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এদিকে ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তদন্তে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ইশরাক হোসেন অবশ্য তাঁর কর্মকাণ্ডকে মাদকের বিরুদ্ধে ‘সামাজিক প্রতিরোধের’ অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনাস্থলে একদল ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসায় আত্মরক্ষার জন্য অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। তাঁর হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তবে দল ও সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশ্ন, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকা সত্ত্বেও একজন প্রতিমন্ত্রীকে কেন নিজেই অস্ত্র হাতে অভিযানে নামতে হলো। তাঁদের মতে, মাদক দমনের উদ্দেশ্য নিয়ে আপত্তি না থাকলেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
দৈনিক প্রথম আলো বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাসহ ১০ জনের সঙ্গে কথা বলেছে। তাঁদের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে এসেছে, ইশরাকের কর্মকাণ্ডে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা এবং মিরপুরের ফুটপাত পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল ৯টা ১০ মিনিট থেকে বেলা ১টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার কর্মসূচিতে তিনি মোট ১৩টি স্থান পরিদর্শন করেন। বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা, নাগরিক সেবা ও ব্যবস্থাপনার পরিস্থিতি দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। কোথাও সাত দিন, কোথাও দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নয়নের সময়সীমাও নির্ধারণ করে দেন।
প্রধানমন্ত্রীর ওই কর্মসূচির দিনেই বিকেলে গেন্ডারিয়া এলাকায় ইশরাক হোসেনের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে। দল ও সরকার-সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের মতে, প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন ঘিরে তৈরি হওয়া ইতিবাচক আলোচনার মধ্যে এ ঘটনা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শনিবারের পরিদর্শনে থাকা মন্ত্রিসভার এক সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, ইশরাকের কর্মকাণ্ডে তিনি বিব্রত ও বিরক্ত হয়েছেন। সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর মতে, মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্দেশ্য যথার্থ হলেও অভিযানের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির এক সদস্যের ভাষ্য, একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন আচরণের দায় শুধু তাঁর ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পুরো মন্ত্রিসভার ওপরও পড়তে পারে। তাঁর মতে, সরকারের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের মধ্যে দায়িত্বশীল একজন ব্যক্তির আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অনাকাঙ্ক্ষিত।
বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের এক শীর্ষ নেতাও প্রথম আলোকে বলেছেন, মাদকবিরোধী অভিযানে প্রশাসনকে সহযোগিতা করা জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কিন্তু অস্ত্র হাতে নিজেই অভিযানে নামা মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যের কাজ নয়। তাঁর মতে, এ ঘটনায় দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুমটিঘর রেলগেট এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ইশরাক হোসেনের নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে তাঁকে গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করতে দেখা যায়। তাঁর পাশে থাকা একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ইশরাকের সঙ্গে থাকা কয়েকজন রেললাইনের পাশে কয়েকজন ব্যক্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। একপর্যায়ে তাঁর একজন দেহরক্ষীকে এক তরুণকে লাথি মারতে দেখা যায়।
ভিডিওতে দেখা যাওয়া এসব দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার ধরন, আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন এবং অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের এক শীর্ষ নেতার মতে, মাদক কারবারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন হলেও তা পরিচালনার জন্য প্রশাসনিক কাঠামো রয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব হলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সক্রিয় করা এবং অপরাধ দমনে সহযোগিতা করা। তাঁর প্রশ্ন, যে কাজ প্রশাসনের মাধ্যমে করা সম্ভব, সেখানে একজন প্রতিমন্ত্রী কেন অস্ত্র হাতে সরাসরি অভিযানে নামবেন?
ঘটনাটি নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টি নিয়ে। ইশরাক হোসেন স্থানীয় এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে দীর্ঘদিন ধরে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাদকের সমস্যা মোকাবিলায় তিনি আগে থেকেই কাজ করছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী দাবি করেছেন, এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং পুলিশ সদস্যদের জনবলসংকট দূর করার বিষয়ে তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক-সামাজিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
তবে নির্দিষ্ট অভিযানের আগে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। শনিবার ইশরাক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রায় ১০ মিনিট পর তিনি পুলিশকে সেখানে আসতে বলেন।
অন্যদিকে, ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা শনিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রতিমন্ত্রী আগে থেকে পুলিশকে বিষয়টি জানাননি; পরে পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পারে।
ফলে স্থানীয় এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে আগের আলোচনা থাকলেও শনিবারের অভিযানটি পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালিত হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
সমালোচনার মুখে রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তাঁর দাবি, একটি অস্থায়ী মাদক আস্তানার কাছে পৌঁছানোর পর ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি হইচই করতে করতে তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। এ পরিস্থিতিতে হামলার আশঙ্কা থেকে তিনি এবং তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।
ইশরাকের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত।
প্রতিমন্ত্রী তাঁর কর্মকাণ্ডকে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাদকের বিস্তার এবং পুলিশের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।
তবে তাঁর ব্যাখ্যার পাশাপাশি ভিডিওতে দেখা দৃশ্য এবং পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়ে পাওয়া বক্তব্যও তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিমন্ত্রীর দাবি এবং অন্য পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে থাকা এসব প্রশ্নের নিষ্পত্তি তদন্তের ফলের ওপর নির্ভর করছে।
ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে অভিযানে নামার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। রোববার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত কি না, সেই প্রশ্নের পাশাপাশি অস্ত্র প্রদর্শনের ধরনও আলোচনায় এসেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালায় অস্ত্র বহন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অন্যের মধ্যে ভয় বা বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারে—এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।
ইশরাকের ঘটনায় এই বিধানের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। অস্ত্রের লাইসেন্স থাকা এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অস্ত্র প্রদর্শনের বৈধতা—দুটি পৃথক বিষয়। তাই শুধু অস্ত্রের লাইসেন্স থাকার দাবি দিয়ে পুরো ঘটনার আইনগত দিক নিষ্পত্তি হয় না।
এ ক্ষেত্রে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, অস্ত্র প্রদর্শনের কারণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং প্রচলিত আইন ও নীতিমালার শর্ত বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ইশরাক হোসেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটিরও সদস্য। তাঁর অস্ত্র হাতে অভিযানের ছবি ও ভিডিও বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে দল ও সরকার সম্পর্কে কী ধরনের ধারণা তৈরি করতে পারে, তা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা।
কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে এমন ওই নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় ঢাকার বিদেশি মিশনগুলোর নজরে ঘটনাটি আসতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর আশঙ্কা, মন্ত্রিসভার একজন সদস্যের এ ধরনের দৃশ্য আন্তর্জাতিক পরিসরে দল ও সরকারের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এটি ওই নেতার ব্যক্তিগত উদ্বেগ। বিদেশি কূটনীতিকেরা ঘটনাটিকে কীভাবে দেখছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো কূটনৈতিক বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইশরাকের কর্মকাণ্ডের সমালোচনার পাশাপাশি তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার দাবিও তুলেছেন কেউ কেউ। তবে এসব দাবি সম্পর্কে সরকারের কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
সমালোচনার মধ্যেই শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পেজে ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন। মাদক কারবারের সঙ্গে নিজের দলের কেউ জড়িত থাকলেও তাঁকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর এ বক্তব্যে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার অবস্থান স্পষ্ট হলেও অভিযানের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক থামেনি। দল ও সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একাংশের বক্তব্য, মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে সক্রিয় করা এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্বশীল ভূমিকা হওয়া উচিত।
ঘটনাটি ঘিরে এখন দুটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রথমত, ইশরাক হোসেনের অস্ত্র প্রদর্শন প্রচলিত আইন ও নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না, তা তদন্তে নির্ধারিত হবে। দ্বিতীয়ত, একজন প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচালিত এ ধরনের অভিযানে প্রশাসনিক সমন্বয় ও দায়িত্ব পালনের সীমা কী হওয়া উচিত, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ডিএমপির তদন্তের ফল প্রকাশের পর অস্ত্র প্রদর্শনের আইনগত দিক সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। এর আগে প্রতিমন্ত্রীর আত্মরক্ষার দাবি, ভিডিওতে দেখা দৃশ্য এবং পুলিশের বক্তব্য—সবকিছুকে বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।