
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূর ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৬ পর্বের ধারাবাহিক আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সংগঠনের নীতি নির্ধারণী চেয়ারম্যান মোঃ সিরাজুল ইসলাম লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং সভাপতি মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন শাহীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়।
আন্দোলনকারী শিক্ষকদের প্রধান ৩ দফা দাবি
১১তম গ্রেড দ্রুত বাস্তবায়ন: নতুন স্কেল ঘোষণার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সহকারী শিক্ষকদের বেতন অবিলম্বে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করা।
উচ্চতর গ্রেড ও পদোন্নতি নিশ্চিতকরণ: সার্ভিস বুক অনুযায়ী ৮ ও ১৪ বছর পূর্তিতে প্রাপ্য দুটি উচ্চতর গ্রেড এবং জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে শতভাগ পদোন্নতি চালু করা।
হয়রানিমূলক বদলি ও মামলা প্রত্যাহার: সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপিসহ সকল শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়ের করা ভিত্তিহীন বিভাগীয় মামলা ও বদলির আদেশ অবিলম্বে বাতিল করা।
রাজপথের আন্দোলনের ৬ পর্বের কর্মসূচি
কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা (২০ অক্টোবর): সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলনের ডাক প্রদান।
কালো ব্যাজ ধারণ ও দোয়া (৮ নভেম্বর): দেশব্যাপী শিক্ষকরা কালো ব্যাজ পরবেন এবং নিহত শিক্ষিকা ফাতেমার রুহের মাগফিরাত কামনায় কেন্দ্রীয় দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।
জেলা প্রশাসকদের স্মারক প্রদান (৮ নভেম্বর): দাবিসংবলিত স্মারকলিপি দেশের প্রতিটি জেলা প্রশাসকের (ডিসি) হাতে তুলে দেওয়া হবে।
বিভাগীয় কমিশনারদের কাছে স্মারকলিপি (১৭ ডিসেম্বর): বিভাগীয় শিক্ষক প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিভাগীয় কমিশনারদের কাছে স্মারকলিপি পেশ।
ঢাকায় বিশাল মহাসমাবেশ (ডিসেম্বর ২০২৬): বার্ষিক পরীক্ষা শেষে দেশের সব প্রাথমিক শিক্ষক নিয়ে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বা শাহবাগে মহাসমাবেশ।
অবস্থান ও আমরণ অনশন কর্মসূচি: কর্মসূচির পর দাবি না মানলে প্রেস ক্লাব বা শাহবাগে এক দফা দাবিতে অবস্থান ও আমরণ অনশন।
দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য ও সরকারের প্রতিশ্রুতি
সহকারী শিক্ষকরা দীর্ঘ দিন ধরে ন্যায্য দাবির জন্য রাজপথে আন্দোলন করছেন। পূর্বে ১০ম গ্রেডের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেডে অসংখ্য শিক্ষক আহত হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিক্ষিকা ফাতেমা মৃত্যুবরণ করেন। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ বৈঠকে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে ১১তম গ্রেড প্রদানে সম্মতি দেওয়া হয়েছিল।
গেজেট প্রকাশের দাবিতে শিক্ষকদের চরম হতাশা
সরকারের উচ্চপর্যায় এবং প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে ১১তম গ্রেডের সম্মতিবিষয়ক প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে ফিরে যান। পরবর্তীতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার চিঠি দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত তা গেজেট আকারে বাস্তবায়িত হয়নি। এদিকে প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড দেওয়ায় সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে তিন গ্রেডের বিশাল বৈষম্য তৈরি হয়েছে, যা শিক্ষক সমাজে চরম অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।