
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যর্থ বলে মন্তব্য এনসিপি আহ্বায়কের; সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা
অস্ত্র-কাণ্ডে সমালোচনার মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের পর এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যর্থ হলেও তাঁকে জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে না।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ইশরাক হোসেন পদত্যাগ করেছেন। এখন দেশবাসী অপেক্ষা করছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কবে পদত্যাগ করবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য প্রধানত দায়ী ব্যক্তি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার রাজধানীর পূর্ব বাড্ডায় একটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিনি শ্রী শ্রী পূর্ব বাড্ডা নিমতলা কালীমন্দির পরিদর্শন করেন।
এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন এনসিপির মুখপাত্র ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলটির ঘোষিত মেয়র প্রার্থী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করানো হলো। কিন্তু আইনশৃঙ্খলার জন্য যিনি প্রধানত দায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তাঁকে কোনো ধরনের জবাবদিহির মধ্যে আনা হচ্ছে না। দেশবাসী তাকিয়ে আছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কবে পদত্যাগ করবেন। কারণ, তিনি সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। যেটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাজ, তিনি সেটা করছেন না। তিনি সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত আছেন।’
ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের পরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে শুধু একজন প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগই যথেষ্ট নয়; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য দায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকেও জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।
ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ইশরাক হোসেন ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, এর আগে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি সংসদ সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু তাঁকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, একজন ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছা, অনুরোধ কিংবা নির্দেশনার ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এক ব্যক্তির ইচ্ছা, অনিচ্ছা, অনুরোধ বা নির্দেশনা অনুযায়ী দেশ চলছে। এটা কোনো গণতন্ত্রের উদাহরণ নয়, আইনের শাসনের উদাহরণ নয়।’
নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সমতা ও জবাবদিহির প্রশ্নটি গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর দাবি, কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠলে তা রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত প্রভাবের ভিত্তিতে নয়, আইন অনুযায়ী তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে।
জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তাঁর অভিযোগ, এই কমিটির নামে সরকার এখনো ‘নাটক’ করছে এবং কমিটির কার্যক্রম জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন নয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সংবিধান সংশোধন কমিটির নামে সরকার এখনো নাটক করছে। এই কমিটিকে এ দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। দলীয় সুশীল বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে কমিটি বৈঠক করছে। তাদের দিয়ে বিএনপি নিজেদের মেনে নেওয়া সংস্কারেরই বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে। এসব জনগণের সঙ্গে প্রহসন।’
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধন ও রাজনৈতিক সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় জনগণের মতামত ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কমিটির কার্যক্রম নিয়ে তাঁর এই সমালোচনা মূলত সংস্কার প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানকে ঘিরে।
ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের প্রত্যাশা—নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে এসব বিষয় একসঙ্গে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রম নিয়েও তিনি সরকারের সমালোচনা করেছেন।
তবে ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে এই বক্তব্যে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
পূর্ব বাড্ডায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনকালে দেওয়া বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক জবাবদিহি, আইনের শাসন এবং সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তাঁর অবস্থান তুলে ধরেন।