
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ থেকে চলাচলকারী সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইটে। এ কারণে মোট ১৪৪টি ফ্লাইটের কার্যক্রম বাতিল বা স্থগিত হওয়াসহ বিঘ্নিত হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ২২ হাজার ২১ জন যাত্রী। ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইটের মধ্যে ৬৭টি সরাসরি এবং ৭৭টি ট্রানজিট রুটের।
শনিবার রাত সাড়ে ১১টার পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
বেবিচকের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনায় সমস্যায় পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২৮টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১৯টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১০টি ফ্লাইট।
ট্রানজিট রুটে ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিমান চলাচলে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি তৃতীয় দেশের বিমানবন্দর ব্যবহার করে চলাচলকারী ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর সময়সূচিও ব্যাহত হচ্ছে।
গত ২২ অক্টোবর রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানায়, সৌদি আরবের দাম্মামগামী ফ্লাইট ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এবং রিয়াদগামী সব ফ্লাইট ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হবে।
এর আগে দাম্মাম রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালু করেছিল রাষ্ট্রীয় এই বিমান সংস্থা। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে একটি ফ্লাইট দাম্মামের উদ্দেশে ছেড়ে গেলেও পরবর্তী সময়ে আবারও ফ্লাইট স্থগিতের ঘোষণা আসে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানিয়েছে, ঢাকা থেকে জেদ্দা ও মদিনাগামী ফ্লাইটগুলো নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারেই পরিচালিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, রিয়াদ ও দাম্মামগামী যাত্রীদের জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প হিসেবে জেদ্দা কিংবা মদিনা বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে যাত্রা করা সম্ভব হবে।
বিমান চলাচলে এই অনিশ্চয়তার কারণে সৌদিগামী যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।