
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক সংকট কাটাতে ৫০ হাজার সহকারী শিক্ষক এবং ৩৮ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
আইনি জটিলতা ও প্রধান শিক্ষক সংকট:
শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিগত এক দশক ধরে দেশে ৬৫ হাজার ৫৭৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০টি পদে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ছিলেন না। মামলা এবং আইনি জটিলতার কারণে এই নিয়োগ দীর্ঘদিন আটকে ছিল। সম্প্রতি আপিলের রায় সরকারের পক্ষে আসায় এবং আইনি জট কেটে যাওয়ায় নিয়োগের নতুন পথ সুগম হয়েছে। সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)-এর মাধ্যমে দ্রুত এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
উৎসব ভাতা ও শিক্ষকদের দাবি:
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষকদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। অতীতে ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা চালু হলেও দীর্ঘ সময় তা আর বাড়ানো হয়নি। তবে নতুন বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে আগামী ঈদে উৎসব ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষকদের ভূমিকা ও মর্যাদা: শিক্ষকদের সমাজের চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী ড. মিলন বলেন, "শিক্ষকরা হলেন সমাজের আইডল বা অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। একটি সুশিক্ষিত সমাজ গঠনে তাদের কোনো বিকল্প নেই।" শিক্ষকদের প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলনে না বসে নিজ নিজ জায়গা থেকে মর্যাদাপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।