
চার দফা দাবি জানিয়ে ১১-দলীয় জোটের হুঁশিয়ারি, আশ্বাসের প্রতিফলন ভোটের মাঠে না দেখলে আন্দোলন জোরদারের ঘোষণা
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সক্ষমতা ও নিরপেক্ষতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। জোটটির নেতারা বলেছেন, ২৯ অক্টোবরের এই উপনির্বাচনের মধ্য দিয়ে বোঝা যাবে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন কতটা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে এবং ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে কতটা সক্ষমতা দেখাতে পারবে।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে ১১-দলীয় ঐক্যের একটি প্রতিনিধিদল। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে নির্বাচনী পরিবেশ, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন জোটের নেতারা।
বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন কমিশন এর আগে তাঁদের দেওয়া অভিযোগগুলোর কিছু বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অভিযোগের ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাঁরা মনে করেন। বুধবারের বৈঠকে কমিশন তাঁদের আশ্বস্ত করেছে। এখন সেই আশ্বাসের প্রতিফলন ভোটের মাঠে দেখা যায় কি না, সেটিই হবে মূল বিষয়।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আগামীকালই নির্বাচন কমিশনের পরীক্ষা হবে। কমিশন স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। তবে আশ্বাসের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল না পাওয়া গেলে তাঁরা কমিশনের বক্তব্যকে ‘আইওয়াশ’ হিসেবে বিবেচনা করবেন। এ ক্ষেত্রে ১১-দলীয় ঐক্যের চলমান আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বৈঠকে ১১-দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধিদল ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে চার দফা দাবি তুলে ধরে।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
1. নির্বাচনে সেনা মোতায়েন: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।
2. উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করতে হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।
3. আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় ব্যবস্থা: নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর যথাযথ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
4. ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ও কেন্দ্রীয় নজরদারি: ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
জোটটির নেতাদের মতে, এসব ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, অনিয়ম শনাক্ত এবং নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে। বিশেষ করে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে প্রার্থীদের মধ্যে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তা সহায়ক হতে পারে।
হামিদুর রহমান আযাদ জানান, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে তাঁরা এর আগেও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করে বিভিন্ন অভিযোগ জানিয়েছিলেন। সেসব অভিযোগের কিছু বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অভিযোগের ক্ষেত্রে তাঁরা প্রত্যাশিত পদক্ষেপ দেখতে পাননি।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবারের বৈঠকে নির্বাচন কমিশন তাঁদের আশ্বস্ত করেছে। তবে শুধু আশ্বাসের ভিত্তিতে সন্তুষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই। ভোট গ্রহণের দিন মাঠপর্যায়ে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং কমিশন অভিযোগের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপরই কমিশনের ভূমিকা মূল্যায়ন করা হবে।
জোটটির এই অবস্থানের মধ্য দিয়ে উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ওপর তাদের প্রত্যাশা ও চাপের বিষয়টি সামনে এসেছে। তাদের দাবি, নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগগুলো যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে কমিশনকে নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে শুধু একটি আসনের ভোট হিসেবে দেখছে না ১১-দলীয় ঐক্য। জোটটির নেতাদের বক্তব্য, এ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে কমিশন কতটা সক্ষম হবে, তা মূল্যায়নেরও সুযোগ তৈরি হবে।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাঁদের চলমান আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। অর্থাৎ উপনির্বাচনের ফলাফলের পাশাপাশি ভোট গ্রহণের পরিবেশ, প্রশাসনের ভূমিকা এবং অভিযোগের বিষয়ে কমিশনের পদক্ষেপও জোটটির রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে উত্থাপিত দাবিগুলোর বিষয়ে কমিশনের বিস্তারিত বক্তব্য এবং চার দফা দাবি বাস্তবায়নে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা এই প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের আশ্বাস এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে। ১১-দলীয় ঐক্য কমিশনের কাছে সেনা মোতায়েন, প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং সিসিটিভির মাধ্যমে নজরদারির দাবি জানিয়েছে।
এখন ভোট গ্রহণের দিন এসব বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, অভিযোগের ক্ষেত্রে কমিশন কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করে এবং ভোটাররা কতটা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা স্পষ্ট করেছেন, তাঁরা নির্বাচন কমিশনের আশ্বাসের বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চান। তাঁদের মতে, আগামীকালের উপনির্বাচনই হবে কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা প্রমাণের সুযোগ। কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ না হলে নির্বাচনী ইস্যুতে চলমান আন্দোলন আরও জোরালো করার পথে হাঁটবে জোটটি।