
বাংলাদেশ দলের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোর ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আইসিসির কাছ থেকে তাঁরা কোনো হালনাগাদ বার্তা পাননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আইসিসি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পারস্পরিক আলোচনার ওপর নির্ভর করছে।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ দল টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যেতে চায় না—এই অবস্থানে তারা এখনো অনড়। ইতিমধ্যে বিসিবি দ্বিতীয় দফায় আইসিসিকে চিঠি দিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। গত ৭ জানুয়ারি বিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওই চিঠির জবাবে আইসিসি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ ও নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনরায় দিয়েছে।
এদিকে ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরানোর পরিবর্তে আইসিসি ভারতের ভেতরেই দুটি ভিন্ন ভেন্যুর প্রস্তাব দিতে পারে। যদিও বিসিবি চাইছে ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হোক। তবে বিশ্বকাপ শুরুর সময় ঘনিয়ে আসায়, এত অল্প সময়ে ভেন্যু পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে। সে কারণেই বিকল্প হিসেবে চেন্নাই ও তিরুবনন্তপুরমে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজনের চিন্তাভাবনা চলছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
তবে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি ভারতীয় বার্তা সংস্থাকে বলেন, বাংলাদেশের ম্যাচ অন্য কোথাও সরানোর বিষয়ে বিসিসিআই এখনো কোনো নির্দেশনা পায়নি। তাঁর মতে, যেহেতু আইসিসিই ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা, তাই এই সিদ্ধান্ত তাদের ও বিসিবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ভবিষ্যতে আইসিসি কোনো সিদ্ধান্ত জানালে আয়োজক হিসেবে বিসিসিআই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক ভারত ও শ্রীলঙ্কা। বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ‘সি’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের চারটি ম্যাচই ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর মধ্যে প্রথম তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং শেষ ম্যাচটি মুম্বাইয়ে নির্ধারিত।
অন্যদিকে, আজ বাফুফে ভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানান, ভারতে খেলতে গেলে বাংলাদেশ দলের সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগ সম্প্রতি বিসিবিকে একটি চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, তিনটি কারণে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে—দলে বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের অন্তর্ভুক্তি, বাংলাদেশি সমর্থকদের জাতীয় জার্সি পরে চলাফেরা এবং দেশের জাতীয় নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, তত নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা।
আইসিসির এই ব্যাখ্যাকে ‘অদ্ভুত’ ও ‘যৌক্তিকতাহীন’ বলে মন্তব্য করেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা। একই সঙ্গে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম আগেই বলেছেন, ভারতের অন্য কোনো ভেন্যু মানেই শেষ পর্যন্ত ভারতে খেলাই।
উল্লেখ্য, বিসিবির নিরাপত্তা উদ্বেগের সূত্রপাত ঘটে ৩ জানুয়ারি, যখন উগ্রপন্থীদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা সামনে আসে। বিসিবির পক্ষ থেকে তখন প্রশ্ন তোলা হয়—যদি একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে পুরো দল, সঙ্গে থাকা কর্মকর্তা, সাংবাদিক, পৃষ্ঠপোষক ও দর্শকদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে। সেই প্রশ্ন থেকেই বিশ্বকাপের ম্যাচ ভারত থেকে সরানোর অনুরোধ জানানো হয় আইসিসিকে।