
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথমবারের মতো প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করলেন বিএনপির সর্বোচ্চ নেতা।
প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে জানানো হয়, তারেক রহমান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যান। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর কন্যা দিনা ইউনূসের সঙ্গে তারা এক ঘণ্টারও বেশি সময় অতিবাহিত করেন।
সাক্ষাৎটি সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ও দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার এই বৈঠক ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
বাসসের খবরে বলা হয়েছে, এর আগে যুক্তরাজ্যের লন্ডন সফরকালে গত বছরের ১৩ জুন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে প্রথমবার বৈঠক করেন তারেক রহমান। সে সময় তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। লন্ডনের ডরচেস্টার হোটেলে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের পর উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছিলেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। গত ৩০ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। এর মাত্র ১০ দিনের মাথায়, ৯ জানুয়ারি, বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন তারেক রহমান।
দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বৃহস্পতিবারই প্রথম অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ করলেন তারেক রহমান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও ভবিষ্যতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে যোগাযোগের নতুন ধারার সূচনা হতে পারে।
তবে বৈঠকে কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয় বা বিএনপির পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।