ঢাকা

রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্কবার্তা, আওয়ামী লীগের পরিণতি তুলে ধরলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
আওয়ামী লীগের অতীত রাজনৈতিক পরিণতির উদাহরণ টেনে সরকারি ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষকেই সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জনগণ থেকে বিচ্ছিন্নতা যেকোনো রাজনৈতিক শক্তির জন্য নেতিবাচক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

রোববার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সাহিত্য উদ্ধৃতিতে রাজনৈতিক বার্তা

বক্তব্যে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর–এর ‘দুই বিঘা জমি’ কবিতার কয়েকটি লাইন উদ্ধৃত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, লোভ ও অন্যায় চর্চার পরিণতি শেষ পর্যন্ত কঠিন বাস্তবতায় রূপ নেয়। তার ভাষায়, “কাঙালের ধন চুরি করতে করতে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছিল”—এই উদাহরণ থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “এমন পরিণতি যেন আমাদের কারও না হয়”—এই সতর্কবার্তা শুধু সরকার নয়, বিরোধী দলগুলোর জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য।

বিরোধী দলকেও সতর্কবার্তা

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানালে তিনি তাদের উদ্দেশ করে বলেন, কেবল সমর্থন জানানোই যথেষ্ট নয়; নিজেদের রাজনৈতিক আচরণেও সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা দেখাতে হবে।

তিনি বলেন, “আপনারা তালি দিচ্ছেন, কিন্তু বিষয়টি আপনাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ভবিষ্যতে যেন একই ধরনের পরিণতির মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।”

‘মুখে মধু, অন্তরে বিষ’ রাজনীতির সমালোচনা

বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় একসঙ্গে কাজ করার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা প্রতিফলিত হয় না। “মুখে মধু, অন্তরে বিষ রেখে কোনো লাভ নেই”—মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আন্তরিক সহযোগিতা জরুরি।

ঐক্যের আহ্বান

দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পারস্পরিক অবিশ্বাস ও দ্বন্দ্ব বজায় থাকলে তা শেষ পর্যন্ত দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “একসঙ্গে কাজ না করলে খাল কেটে কুমির আনার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে,” যা জাতীয় স্বার্থের জন্য হুমকিস্বরূপ।

প্রেক্ষাপট

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে এ ধরনের বক্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহির বিষয়টিকে সামনে আনে। তারা মনে করেন, কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ ও সহযোগিতা অপরিহার্য।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স