ঢাকা

যুদ্ধের সময় ইউএইতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ পাঠানো হয়: সিএনএন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
সাম্প্রতিক ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতে গোপনে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ মোতায়েন করেছিল ইসরায়েল—এমন তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একটি ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে এই তথ্য রোববার প্রকাশ করা হয়।

এর আগে মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রথম এই খবর প্রকাশ করে। পরে বিষয়টি সিএনএনকেও নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট ইসরায়েলি সূত্র।

গোপন সামরিক মোতায়েন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল কয়েক ডজন সেনা এবং স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠায়। এই মোতায়েন ছিল অত্যন্ত গোপনীয় এবং উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

সূত্রটি জানায়, যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান–এর মধ্যে ফোনালাপের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২০২০ সালে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর এই ধরনের সামরিক সহযোগিতা এই প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এলো।

যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও আঞ্চলিক বিস্তার

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়, যা দ্রুত উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ছয় সপ্তাহ চলা এই যুদ্ধ শেষে ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

এই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ইরান অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করেছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ চলাকালে দেশটিতে ৫৫০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২,২০০টির বেশি ড্রোন হামলা চালানো হয়।

সরকারি দাবি অনুযায়ী, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় ৯০ শতাংশ হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে।

‘আয়রন ডোম’ কী

ইসরায়েলের তৈরি ‘আয়রন ডোম’ একটি মোবাইল স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা রকেট, মর্টার, আর্টিলারি শেল এবং ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম।

এই সিস্টেম এর আগে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হলেও বিদেশে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করার ঘটনা এটিই প্রথম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নজিরবিহীন কৌশলগত সহযোগিতা

বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরায়েল ও আরব আমিরাতের মধ্যে এমন সরাসরি সামরিক সহযোগিতা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কৌশলে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। আব্রাহাম অ্যাকর্ডস–পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক কূটনৈতিক সীমা ছাড়িয়ে নিরাপত্তা সহযোগিতায় পৌঁছেছে বলেও তারা মনে করছেন।

তবে এই গোপন মোতায়েন নিয়ে এখনো কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি, ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৌশলগত বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স