নিউইয়র্ক শহরের মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানি বিজয়ী হওয়ায় শহরের বাসিন্দারা যেমন খুশি, তেমনি দেশজুড়ে অনেকে তাঁর জয়কে নতুন উদ্দীপনা হিসেবে দেখছেন। ম্যানহাটানের বাসিন্দা কেইথ অ্যালান ওয়াটস বলেন,
“নিউইয়র্ককে যেন আবার নিউইয়র্ক বলে মনে হচ্ছে। এটা শুধু একটা নির্বাচন ছিল না, সবাই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন।”
৩৪ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মামদানি প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর বিজয়কে শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তরুণ ও প্রবীণদের মধ্যে উদ্দীপনা
নির্বাচনী প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং সাধারণ মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন মামদানি। ম্যানহাটানের বাসিন্দা অ্যালান ওয়াটস বলেন, “বছরের পর বছর ধরে নিউইয়র্কবাসী আশা হারিয়েছিল, কিন্তু মামদানির কথা শোনার পর মনে হলো, কেউ মানুষের জন্য কথা বলছেন।”
৮১ বছর বয়সী মার্গারেট কোগান বলেন, মামদানির নেতৃত্বে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের জন্য শহরটি আরও সাশ্রয়ী হবে। তিনি মনে করেন, মামদানি ঘুমিয়ে থাকা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য জাগরণের বার্তা।
নিউইয়র্কের তরুণ ভোটার ডিলানও বলেন, প্রাইমারি বা প্রার্থী বাছাইপর্বে ভোট না দিলেও মামদানি প্রচার দেখে তিনি শেষ পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন।
নিউইয়র্কের বাইরে আনন্দের প্রতিধ্বনি
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দারাও মামদানির জয়কে স্বাগত জানিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, ইউটাহের স্কট রিচিং বলেন,
“মেধাবী তরুণ মামদানি যেভাবে সাহসিকতার সঙ্গে ধনকুবের ও ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন, তা মন জয় করেছে।”
টেনেসির কেফিয়াস স্ট্রাচান বলেন, বহু বছরের মধ্যে এটাই প্রথমবার যে তিনি ঘুম থেকে উঠে ভালো খবর পেয়েছেন। মিশিগানের ৩২ বছর বয়সী ডেভন বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের বাধার সম্ভাবনা থাকলেও তিনি আশা হারাবেন না।
চ্যালেঞ্জ ও উদ্বেগ
নিউইয়র্কের কয়েকজন বাসিন্দা মামদানির সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফ্লোরিডার ৭১ বছর বয়সী ব্রুস ওয়েকস বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন যেকোনোভাবে মেয়র হিসেবে মামদানির যাত্রায় বাধা দিতে পারে।
অনেকে মন্তব্য করেছেন যে মেয়র হিসেবে মামদানির কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই, এবং তাঁর পরিকল্পনার কিছু বিষয় ‘অবাস্তব’ হতে পারে।
তবুও বেশির ভাগ নিউইয়র্কবাসী আশাবাদী। শহরের বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী কিম্বারলি মাইকেল বলেন,
“ভালো কিছু হবে। এখন দরকার আমাদের সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা।”
নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, আগামী জানুয়ারিতে মামদানির মেয়র হিসেবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। এ জয়কে শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীক নয়, বরং নিউইয়র্কবাসীর আশা, স্বস্তি ও নতুন উদ্দীপনার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।