বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনও ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসকেরা বলছেন—কিছুটা উন্নতি হলেও তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল নয়। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও এখনই পরিবহন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। বিএনপি বলছে, শরীরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য লন্ডনকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে বিকল্প হিসেবে আরও কয়েকটি দেশ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্স থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র—সবই প্রস্তুত আছে।
এদিকে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন মসজিদে কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া মাহফিল হচ্ছে। অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও তাঁর সুস্থতা কামনায় প্রার্থনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হাজার হাজার মানুষ দোয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন।
রাষ্ট্রপতি, জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, রাজনৈতিক নেতারা এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। লন্ডনে থাকা তারেক রহমানও সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
গত ২৩ নভেম্বর খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। ফুসফুসে সংক্রমণ থেকে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া দেখা দেয়। তাঁর দীর্ঘদিনের কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিস সমস্যা চিকিৎসাকে জটিল করে তুলেছে। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সিসিইউতে নেওয়া হয়।
মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা তাঁর চিকিৎসা করছেন। লন্ডন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞরাও ভার্চুয়ালি আলোচনা করছেন।
বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন—পূর্ববর্তী সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফলেই খালেদা জিয়া আজ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।
হাসপাতালে প্রতিদিন অসংখ্য বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ ছুটে যাচ্ছেন। ভিড় কমাতে দলের পক্ষ থেকে অনুরোধও জানানো হয়েছে।
মেডিকেল বোর্ডের এক চিকিৎসকের ভাষ্য—ধারাবাহিক ডায়ালাইসিস চলছে। হার্টের মাইট্রাল ভাল্ব শক্ত হয়ে যাওয়ায় রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে সংক্রমণ যুক্ত হওয়ায় তাঁর অবস্থা আরও জটিল।
সূত্র বলছে, আগামীকাল চীনের একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল ঢাকায় এসে তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে।
চিকিৎসক ডা. জাহিদ জানান—গত তিন দিন ধরে খালেদা জিয়ার অবস্থায় বড় কোনো পরিবর্তন নেই, তবে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন। তাঁর দ্রুত সেরে ওঠার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।