ইসলামী ব্যাংক তাদের অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৪ নভেম্বর ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং বৃহস্পতিবার ডিএসই-র মাধ্যমে শেয়ারধারীদের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, বিগত সময়ে এস আলম গোষ্ঠীর নানামুখী অনিয়ম ও অর্থ উত্তোলনের কারণে ইসলামী ব্যাংক মারাত্মক মূলধন সংকটে পড়েছে। সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং বিদেশি কৌশলগত বিনিয়োগকারী যুক্ত করার লক্ষ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে অনুমোদিত মূলধন বাড়ানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন · inarticle_1

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ব্যাংকের সংঘস্মারক সংশোধনের মাধ্যমেই এই মূলধন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তবে এটি চূড়ান্ত কার্যকর করতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এবং বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) শেয়ারধারীদের সম্মতি প্রয়োজন হবে।

চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ইসলামী ব্যাংক ৩ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা নিট লোকসান করেছে, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ব্যাংকটি প্রায় ৭৯ কোটি টাকা মুনাফায় ছিল। শুধু শেষ প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর)-তেই ব্যাংকটির লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা।

টানা বড় অঙ্কের লোকসানের কারণে ব্যাংকের নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) কমে ৩ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকায় নেমে এসেছে, যা আগের বছর ছিল ৬ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা। সম্পদমূল্য কমে যাওয়ায় প্রতি শেয়ারের বিপরীতে ব্যাংকের নিট সম্পদের মূল্যও অনেক কমেছে।

২০১৭ সালে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এস আলম গ্রুপ এবং বিভিন্ন নামে-বেনামে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা বের করে নেয়, যা বর্তমানে খেলাপি। এর প্রভাবে ২০২৩ সালের পর আর কোনো লভ্যাংশ দিতে না পেরে শেয়ারবাজারে ব্যাংকটি ‘জেড’ ক্যাটাগরির দুর্বল কোম্পানিতে পরিণত হয়। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন বাংলাদেশ ব্যাংক মনোনীত পর্ষদ এটি পরিচালনা করছে।