ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে আবু আবেদীন মো. কাওসার হাসানকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অধ্যাপক লালা রুখ সেলিমকে কেন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে না, রুলে সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।

অধ্যাপক লালা রুখ সেলিমের দায়ের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, যার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ইয়াসির আরফাত খান ও আরিফুর রহমান।

বিজ্ঞাপন · inarticle_1

রিট আবেদনের তথ্যমতে, ভাস্কর্য বিভাগের বিদায়ী চেয়ারম্যানের মেয়াদ গত ২৯ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী চেয়ারম্যানের মেয়াদ শেষ হওয়ার এক মাস আগে পরবর্তী দায়িত্বপ্রাপ্তকে অবহিত করার নিয়ম থাকলেও এ ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত একাডেমিক কমিটির সভায় জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অধ্যাপক লালা রুখ সেলিমকে পরবর্তী প্রধান হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিস্টারকে জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে ২১ সেপ্টেম্বর আবু আবেদীন মো. কাওসার হাসানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অধিকার নিশ্চিত না করে এমন নিয়োগ দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে অধ্যাপক লালা রুখ সেলিম হাইকোর্টে এই রিট আবেদন জানান। মামলায় ঢাবি কর্তৃপক্ষ, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবং সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়।

আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া জানান, আদালত অধ্যাপক লালা রুখ সেলিমকে কেন চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হবে না সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।