চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। মারাত্মক এই ফল বিপর্যয়ের সঠিক কারণ জানতে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের জরুরি তলব করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ফলাফলের সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তলবকৃত প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছ থেকে লিখিত ও মৌখিক ব্যাখ্যা নেওয়ার পর পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী কড়া আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এবার ১১টি সাধারণ ও বিশেষায়িত বোর্ডে গড় পাসের হার মাত্র ৫২.১২ শতাংশ, যা বিগত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন যে, শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তিনি জানান, তাদের বক্তব্য শোনার পরপরই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পারফরম্যান্স বিগত বছরের তুলনায় আশঙ্কাজনকভাবে ভেঙে পড়েছে। ২০২৫ সালে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২টি, যা এবার ৯১টি বেড়ে ২৯৩টিতে পৌঁছেছে। অন্যদিকে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৪৫টি থেকে ২০৬টি কমে মাত্র ১৩৯টিতে নেমে এসেছে। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাতেও বড় ধরনের ধস নেমেছে; এবার মাত্র ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। উল্লেখ্য, চলতি বছর মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন।



